হয় না বৃষ্টি, এড়িয়ে চলে জীবজন্তুও: রহস্যে ঘেরা দ্বীপ বাল্ট্রা

হয় না বৃষ্টি, এড়িয়ে চলে জীবজন্তুও: রহস্যে ঘেরা দ্বীপ বাল্ট্রা

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ২৩:০০

বছরে এক ফোঁটাও বৃষ্টি পড়ে না মাটিতে। জীবজন্তুরাও এড়িয়ে যায় এই ভূখণ্ড। দ্বীপে পা রাখার পর থেকে অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করে মানুষও। এই দ্বীপের রহস্যময় চরিত্র বিজ্ঞানীদের এখনও অজানা।

সমুদ্রের ধারের এক আপাতশান্ত দ্বীপ, স্থানীয় নাম ইসলা বাল্ট্রা। একে ঘিরেই দানা বেধেছে অজানা রহস্যের জট। প্রকৃতির খামখেয়ালি, না অভিশাপ- কী মিশে আছে বাল্ট্রা দ্বীপের মাটিতে?

গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত অদ্ভুত আর রহস্যময় দ্বীপ বাল্ট্রা। দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের নিকটবর্তী ১৩টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত হয়েছে গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ। এই ১৩টি দ্বীপের অন্যতম বাল্ট্রা দ্বীপ। জনমানুষের বসতি নেই বলে দ্বীপটির নাম হয়েছে ‘ডেড আইল্যান্ড’ বা মৃত দ্বীপ। এই দ্বীপের চরিত্র আশপাশের ১২টা দ্বীপের চেয়ে একেবারেই আলাদা।

দ্বীপটির রাজনৈতিক ইতিহাসও কম মুখরোচক নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় পানামা খালকে সুরক্ষিত রাখা এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য বাল্ট্রা দ্বীপে বিমানঘাঁটি স্থাপন করেছিল মার্কিন সরকার। এরপর থেকেই প্রচারের আলোয় আসে এটি। এই দ্বীপের রহস্যময় আচরণের কথাও সেই সময় থেকেই প্রথম জনসমক্ষে আসে।

গ্যালাপাগোস গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জ হওয়ায় এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়। আশেপাশের অন্য দ্বীপগুলোতে প্রবল বর্ষণ হলেও এক ফোঁটাও বৃষ্টি পড়ে না বাল্ট্রায়। কী এক রহস্যময় কারণে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো বাল্ট্রার মাটিতে পড়ার আগেই উড়ে চলে যায় অন্য দিকে।

বৃষ্টি না হওয়ায় গ্যালাপাগোসের অন্য দ্বীপগুলোর তুলনায় এই দ্বীপের চরিত্রও একেবারে আলাদা। বিপ্রতীপই বলা যায়। ইকুয়েডরের আশেপাশের এই দ্বীপগুলোতে বাস করে প্রচুর পরিমানে সিল, ইগুয়ানা, দানবীয় কচ্ছপ, গিরগিটিসহ নানা জাতের সরীসৃপ। বিরল প্রজাতির নানা পাখির আনাগোনা লেগে থাকে এইসব দ্বীপে। মজার ব্যাপার, এইসব স্থানীয় জীবজন্তুদের কারও দেখা মেলে না বাল্ট্রায়। আসে না পাখিও।

রুক্ষ ধূসর এই দ্বীপটায় একটি গাছ পর্যন্ত নেই। এক জাতের ফণীমনসা আর পালো সান্টো গাছ ছাড়া সবুজের দেখা মেলে না সেখানে। এক অজানা ভয়ে ছোটখাটো সরীসৃপেরাও এড়িয়ে চলে এই দ্বীপ। দেখা গেছে, বাল্ট্রাকে এড়িয়ে পাশের দ্বীপ সান্তাক্রুজের ধার ঘেঁষে চলছে প্রাণীগুলো। আকাশে উড়ন্ত পাখিগুলোও উড়তে উড়তে বাল্ট্রার কাছে এসে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে দিক বদল করে চলে যায় অন্যদিকে। দেখে মনে হয়, যেন কোো দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে যাচ্ছে ওরা।

জনশ্রুতি আছে, বাল্ট্রা দ্বীপে এক সময় মানববসতি ছিলো। কিন্তু কয়েকশো বছর আগে এক অদ্ভুত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। হু হু করে মানুষ মরতে শুরু করে। ভয় পেয়ে দ্বীপবাসীরা সবাই ঘরবাড়ি ছেড়ে পালায়। মুখে মুখে রটে যায় এই দ্বীপ অভিশপ্ত, একবার গেলে আর প্রাণ নিয়ে ফেরা যাবে না। সেই থেকে জনমানবশূন্য এটি।

বাল্ট্রায় এলেই না কি অস্বাভাবিক আচরণ করে নাবিক বা অভিযাত্রীর কম্পাসও। উন্নতমানের দামি কম্পাসও কাজ করে না এই দ্বিপে। সবচেয়ে রহস্যজনক ব্যাপার হল, বাল্ট্রা দ্বীপের ওপর দিয়ে যাওয়া বিমানগুলোতেও কম্পাস কাজ করে না। বিজ্ঞানীরা বাল্ট্রা দ্বীপের এ রহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি আজও।

সূত্র: ট্রাভেলার ডটকম, উইকিপিডিয়া ও দ্য ওয়াল

ইউডি/আতা

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading