শিশু আয়াত হত্যা: এ কেমন নৃশংসতা
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৬:০৫
চট্টগ্রামে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতের (৫) একের পর এক খণ্ডিত অংশ (সবশেষ মাথার অংশ) উদ্ধার করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই হত্যাকান্ডের ঘটনা শুধু আয়াতের পরিবারই নয়, শোকে স্তব্ধ করেছে গোটা জাতিকেই। মানবিকতা, নৈতিকতা ও অবক্ষয় নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিস্তারিত লিখেছেন আসাদ এফ রহমান
গা শিউরে ওঠা নির্মমতা, জাগে হাজারো প্রশ্ন: শিশু আয়াতের হত্যাকাণ্ড এতটাই লোমহর্ষক যে তা শুনে সাধারণ মানুষ কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও গা শিউরে উঠে। পাঁচ বছরের একটি শিশু কতটা নির্মম-ভয়াল মৃত্যুর শিকার হলো। এতো বড় হত্যাকাণ্ড যে ঘটিয়েছে তার বয়সও যে খুব বেশি তা কিন্তু নয়, ঘটনার মূল আসামী আবীরের বয়স ১৯ বছর। এ বয়সেই শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণের চিন্তা তার মাথায় আসে কিভাবে, সেটাও সমাজের বড় এক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই আসে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পারিবারিক শিক্ষা ও নৈতিকতার অবস্থান। এই বয়সে একজনকে হত্যা করে তার লাশ ৬ টুকরো করে সেই লাশের আলামত নষ্ট করার পুরো প্রক্রিয়া কি আবীর একাই ঘটিয়েছেন তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। আসামী আবীরকে প্রথম দফা রিমান্ডের পর এই ঘটনায় তার বাব-মা কেও রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তাতে এটা স্পষ্ট যে কোনো না কোনো ভাবে ঘটনার সঙ্গে পরিবারের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন তারা। একইসঙ্গে আসামীর ছোটবোনকেও আদালত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসারের উপস্থিততে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন।
‘আমার মেয়ের কি অপরাধ ছিলো…’: পাঁচ বছরের একমাত্র সন্তানের এমন মৃত্যুর ঘটনায় বাকরুদ্ধ আয়াতের বাবা সোহেল রানা ও মা সাহিদা আক্তার তামান্না। সোহেল রানার আকুতি যদি তিনি তার মেয়ের সুন্দর মুখখানা একবারের জন্যও দেখতে পেতেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উদ্ধারকাজ আরও কিছুদিনের জন্য জারি রাখার অনুরোধও জানান। বৃহস্পতিবার আয়াতের খণ্ডিত মাথার অংশ পাওয়ার পর আয়াতের দাদা মঞ্জুর হোসেনের ধারণা, আবীরের মা ও বোনও এ ঘটনা জানে। তার প্রশ্ন করেন, কেন তার নাতনিকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো? কী ছিল তার অপরাধ? নাতনি হারানো বৃদ্ধ দাদা অপরাধীর ফাঁসি চান। প্রসঙ্গত, পিবিআইয়ের ২৫ জন সদস্যের দুটি দল আয়াতের দেহাবশেষ যেখানে ফেলা হয় সেখানে অনুসন্ধান করছে। পিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পাওয়া খøিত অংশে আয়াতের মুখ বিকৃত হয়েছে, তাই শনাক্ত করা কঠিন, তবে এটি তার মাথা হওয়া উচিত।

দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এখন এটাই দাবি: পিবিআই বলছে, আয়াতকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা উদ্দেশ্য ছিল খুনির। এই ঘটনায় পিবিআই সর্বোচ্চ দিয়ে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুটি ভিন্ন টিম টানা মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের কাজ করছে। তবে, আসামী আবীরের মুখে ঘটনা শুনে অবাক হয়েছেন তারাও। এতো নৃশংসতা, এতা লোমহর্ষক ঘটনা কিভাবে একটি ১৯ বছরের ছেলের দ্বারা সম্ভব হলো তাই ভাবছে সবাই। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা যারা জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং এর বিচার যত দ্রæত সম্ভব সম্পন্ন করতে হবে। দিনকে দিন সমাজে এই ধরণের অপরাধ প্রবণতার যে হারে বেড়েছে তাতে বিচারের নজির স্থাপন করা গেলে হয়তো এ ধরণের অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। একই সঙ্গে পরিবারেরও উচিৎ সার্বক্ষণিক নিজেদের সন্তারদের ওপর নজরদারি বাড়ানো। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কি করছে তা জানা। নয়তো আবীরের মতো হাজারো আবীরের জন্ম হবে, যেখানে অকালেই ঝরে যাবে আয়াতের মতো আরও কোনো আয়াত।
ইউডি/এজেএস

