দেশের ১ম মেট্রোরেলের উদ্বোধন আজ: নতুন ইতিহাসের সূচনা
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৯:৫৫
যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে আধুনিক যুগে পা রাখছে বাংলাদেশ। দেশের ইতিহাসে প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও অংশের উদ্বোধন করে নয়া দিগন্তের সূচনা করবেন। এ নিয়ে আসাদুজ্জামান সুপ্ত’র বিশ্লেষণ
যানজটে ক্লান্ত নগরীর যেন এক বটবৃক্ষ: সকল অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে আজ। যানজটে ক্লান্ত নগরী ঢাকা নতুন মোড়কে নিজেকে আবিস্কার করবে, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিক যুগে পা রাখবে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসিতপূর্ণ এই মহানগরী। সবুজ পতাকা দুলিয়ে মেট্রোরেলের যাত্রার সংকেত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এরই মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের প্রথম মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হবে। পদ্মা সেতুর পর মেট্রোরেল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালকে আরও একটি সাফল্য যা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে অমর করে রাখবে। আজ বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) উত্তরা উত্তর স্টেশনে হবে এই আনুষ্ঠানিকতা। মেট্রোরেলের উদ্বোধনী যাত্রায় খোদ সরকারপ্রধান অবতীর্ণ হবেন রেলের গার্ডের ভূমিকায়। পরে সেই সবুজ পতাকায় নিজের স্বাক্ষরও তিনি রেখে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীই হবেন এ বৈদ্যুতিক ট্রেনের প্রথম যাত্রী। উত্তরা থেকে মতিঝিল হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত ২২ দশমিক ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেল দেশের যোগাযোগ ইতিহাসে নতুন সংযোজন। প্রথমদিকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে। উত্তরা থেকে আগারগাঁওয়ের মাঝের সাতটি স্টেশনে ট্রেন থামবে না। প্রথমদিকে ১০ মিনিট পর পর ট্রেন ছাড়বে। উত্তরা এবং আগারগাঁও স্টেশনে ট্রেনগুলো ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকবে।
মেট্রোরেল প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১২ সালে। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি হয় পরের বছর। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে।

বাস্তবতার নিরিখেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে: মেট্রোরেলের উদ্বোধনী আয়োজন সম্পর্কে মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে সংবাদ সম্মেলন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সবাই এটা মেনে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আগামী বছর ডিসেম্বরে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হবে। ২০২৫ সালে কমলাপুর পর্যন্ত চলবে। সে ক্ষেত্রে পুরোটা চালু হলে উত্তরা থেকে মতিঝিলে যেতে ৩৮ মিনিট লাগবে। ঘণ্টায় ৬০ হাজার অর্থাৎ দিনে ৫ লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা ভাড়া ছাড়াই মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারবেন, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য এতে কোনো হাফ পাস থাকছে না। তবে, পঙ্গুদের জন্য ছাড় আছে। পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের আদলে মেট্রোরেল উদ্বোধনের দিনও একটি সুধী সমাবেশ হবে। উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে সেই অনুষ্ঠানে মেট্রোরেলের ফলকের একটি প্রতিরূপ উšে§াচন করবেন প্রধানমন্ত্রী । সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আগামী ২৬ মার্চ থেকে মেট্রোরেল সব স্টেশনে থামবে। তবে শুরুতে মেট্রোরেল রাজধানীর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে। মাঝখানে কোনো স্টেশনে থামবে না।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মেট্রোরেলে কোনো হাফ ভাড়া থাকছে না। গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও মেট্রোরেলে না থাকার কারণ জানান এমডি। তিনি বলেন, এমনিতেই যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা খরচের ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। এ ছাড়া যাঁরা স্থায়ী কার্ড কিনে যাতায়াত করবেন, তাঁদের জন্য ১০ শতাংশ ছাড় আছে।

সময় বাঁচার পাশাপাশি হবে অর্থ সাশ্রয়: যানজটের কারণে ঢাকা মহানগরীতে কর্মজীবীদের দৈনিক ৫০ লাখ কর্ম ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার আর্থিক ক্ষতি বছরে ১ লাখ ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা মেট্রোরেলের মাধ্যমে ঢাকা শহর যানজটের কবল থেকে অনেকটা মুক্তির পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক হিসাবের বিবেচনায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। আর যানজট থেকে মুক্তি মিললে আমদানি-রপ্তানির সরবরাহ লাইনও গতিশীল হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার যানজট এবং পরিবেশে মেট্রোরেলের অসামান্য প্রভাব পড়বে। মেট্রোরেল চালু হলে দুই জায়গায় প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। প্রথমত, সময়। উত্তরা থেকে কমলাপুর যেতে এখন ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগে। মেট্রোরেল হলে সময় লাগবে মাত্র ৩৮ মিনিট। এই সময়ের মধ্যেই ১৭টি স্টেশনের প্রতিটিতে ৩০-৪৫ সেকেন্ড থামবে। এ বেঁচে যাওয়া সময় অন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক কাজে লাগাতে পারবে মানুষ। মেট্রোরেলের পরিচালক এন এম সিদ্দিক জানান, মেট্রোরেলের কারণে ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন অর্থ সাশ্রয় হবে। বর্তমান টাকার অঙ্কে ৪২ হাজার কোটি টাকা।
ইউডি/কেএস

