আমেরিকায় পুলিশি নির্যাতনে বাংলাদেশি যুবক নিহত: ফুঁসে উঠেছে বাংলা কমিউনিটি

আমেরিকায় পুলিশি নির্যাতনে বাংলাদেশি যুবক নিহত: ফুঁসে উঠেছে বাংলা কমিউনিটি

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার , ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১০:১০

আমেরিকার বস্টনের কেমব্রিজে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন সৈয়দ আরিফ ফয়সাল নামের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক শিক্ষার্থী। পুলিশের অভিযোগ, ছুরি হাতে নিয়ে ঘুরছিলেনতিনি। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, শ্বেতাঙ্গ পুলিশের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন ফয়সাল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে উত্তাল স্থানীয় জনতা। এ নিয়ে বিনয় দাসে’র প্রতিবেদন

বাংলাদেশি লাইভস ম্যাটার টু: আমেরিকায় ‘পুলিশি হত্যাকান্ডে’ যেন থামছেই না। দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে একের পর এ ধরণের হত্যাকান্ডের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মিশিগান, ক্যান্টাকির পর এবার এমনই এক হত্যার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। বস্টনের কেমব্রিজে স্থানীয় সময় গত বুধবার এই ঘটনা ঘটে। আর এই ঘটনায় এখন উত্তাল বস্টন। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের মতো ‘বাংলাদেশি লাইভস ম্যাটার টু’ স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। নিজেদের কমিউনিটির সন্তান ফয়সালের এই মৃত্যুকে হত্যাকান্ড আখ্যায়িত করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা বলেন, ফয়সাল শ্বেতাঙ্গ পুলিশের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছে।

কম্যুনিটি লিডার ইকবাল ইউসুফ সেই সমাবেশে বলেন, বস্টন হচ্ছে সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষের সিটি৷ আমরা কখনো কোনো দাঙ্গায় লিপ্ত হইনি৷ তবু কেন আমাদের টার্গেট করা হয়েছে? কেন আমাদের নিষ্পাপ আরিফের বুকে বিদ্ধ হবে পুলিশের বুলেটে৷ তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় নীরব থাকার অবকাশ নেই৷ আমাদের সংঘবদ্ধ আওয়াজ ওঠাতে হবে এহেন বর্বরতার বিরুদ্ধে৷ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, পুলিশ চাইলেই তাকে বাঁচাতে পারত। পুলিশের বিচারের দাবিতে সোমবার (০৯ জানুয়ারি) ক্যামব্রিজ সিটি হলের সামনে আবারও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

সৈয়দ ফয়সাল আরিফ

সুষ্ঠু তদন্তের প্রতিশ্রুতি: যৌথ বিবৃতিতে ক্যামব্রিজের মেয়র সুম্বুল সিদ্দিকী এবং সিটি ম্যানেজার ই-আন হুয়াং বলেছেন যে তারা গুলির ঘটনায় ‘গভীরভাবে দুঃখিত’। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের চিন্তা ও সমবেদনা মৃতের পরিবার এবং প্রিয়জনদের প্রতি। জেলা অ্যাটর্নি অফিস সিটি ও পুলিশ বিভাগের পূর্ণ সহযোগিতায় একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করবে। আমরা সমস্ত তথ্য এবং ফলাফলগুলো উপলব্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যালোচনা করব এবং আমাদের সম্প্রদায়ের প্রত্যেকের নিরাপত্তা এবং মঙ্গল নিশ্চিত করার জন্য আমরা এই মামলা থেকে শিক্ষা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জীবনের এই মর্মান্তিক ক্ষতি পুরো শহর জুড়ে আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে এবং আমরা আগামী সপ্তাহের শুরুতে একসাথে প্রক্রিয়া করার জন্য একটি সম্প্রদায়ের সভা সংক্রান্ত তথ্য জারি করব।

ফয়সালকে নিয়ে যা বলছে পুলিশ: পুলিশের দাবি, ছুরি হাতে থাকা সৈয়দ ফয়সাল আরিফকে ধাওয়া করে তারা। একপর্যায়ে ছুরি ফেলে দিতে বললে তিনি পুলিশের দিকে এগোতে থাকেন। এ সময় পুলিশ তার বুকে পরপর পাঁচটি গুলি করে। মিডলসেক্সের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান বলেন, পুলিশ ধাওয়া করে চেস্টনাট স্ট্রিটে তাকে ঘিরে ফেলে। রায়ান আরও বলেন, তখন ফয়সালকে ছুরি ফেলে দিতে বলেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু এই তরুণ ছুরি হাতে নিয়ে পুলিশের দিকে তেড়ে আসছিলেন। তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ ফয়সালকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। কেমব্রিজের পুলিশ কমিশনার ক্রিস্টিন ইলো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক। আমরা আরিফের মৃত্যুকেও সহজভাবে নিচ্ছি না। সরেজমিনে তদন্ত চলছে। যদি অন্যায়ভাবে গুলি চালানো হয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

তবে, স্থানীয় একটি টিভিতে দেওয়া সাক্ষাতকারে ঘটনাস্থলের এক নারী বাসিন্দা নারী বলেছেন, ফয়সালের হাতে কোনো ছুরি তিনি দেখেননি। রেনি নামের এক নারী এনবিসি বোস্টনকে জানিয়েছেন, তার অফিসের লোকেরা গুলির শব্দ শুনেছে। তিনি বলেন, আমরা বাইরে এসে দেখি একজন দৌঁড়াচ্ছেন আর তার পেছনে অনেক পুলিশ। তিনি খালি পায়ে, শার্টবিহীন ছিলেন এবং তার হাতে একটি বই ছিল। এই ঘটনায় বাকরুদ্ধ আরিফের বাবা মো. মুজিবউল্লাহ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, ও ছিল খুবই মেধাবি। আশা করেছিলাম সে ইঞ্জিনিয়ার অথবা ডাক্তার হবে। কিন্তু এখন সব আশা শেষ হয়ে গেল। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের ব্যাকগ্রাউন্ড আপনারা যাচাই করতে পারেন। আমি এ ঘটনা মেনে নিতে পারছি না।

ইউডি/সুপ্ত/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading