ইরানে আরও দুই বিক্ষোভাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার , ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৭:১৫
পুলিশি হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুর পর সৃষ্ট সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
দেশটির বিচার বিভাগ ওই দুই ব্যক্তিকে আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্যকে হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। এরপর শনিবার (০৭ জানুয়ারি) ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। খবর আলআরাবিয়ার।
ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় দেশটিতে এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে আন্দোলনে যুক্ত দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে দেশটির বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম মিজানের অনলাইনে বলা হয়েছে, ‘আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য রুহুল্লাহ আজমিয়ানকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাহদি কারিমি ও সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেনিকে এই সকালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।’
৩ নভেম্বর আজমিয়ানকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় গত ডিসেম্বরের শুরুতে এই দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। এরপর গত মঙ্গলবার বিচার বিভাগ জানায়, দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ওই দুইজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছে।
আজমিয়ান দেশটির ক্ষমতাধর অভিজাত ইসলামি রেভ্যুলেশনারি গার্ডস বাহিনীর বাসিজ মিলিশিয়ার সদস্য ছিলেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে তিনি তেহরানের কারাজে নিহত হন।
সরকারি কৌসূলীরা বলেছেন, ২৭ বছর বয়সী ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বিবস্ত্র করে হত্যা করে একদল মানুষ।
মূলত হাদিস নাজাফিতে প্রতিবাদী কর্মসূচি চলাকালে তাকে হত্যা করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে ইরানি কুর্দি নারী মাহসা আমিনি নৈতিকতাবিষয়ক পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান। হিজাব যথাযথভাবে না পরার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে তিনি মারা গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়।
এ ঘটনায় দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। এ বিক্ষোভ দমন করতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হন। গ্রেপ্তার করা হয় হাজারো বিক্ষোভকারীকে।
এখনো ওই বিক্ষোভ চলছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এর সঙ্গে যুক্ত থাকা ১৪ জনকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে বলে এএফপি জানিয়েছে।
এই ১৪ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া দুইজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ছয়জন নতুন বিচারের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং বাকি দুইজন আপিল করার সুযোগ পেয়েছেন।
ইউডি/এ

