কবর সংরক্ষণের জন্য ফি বাড়িয়েছে ডিএনসিসি

কবর সংরক্ষণের জন্য ফি বাড়িয়েছে ডিএনসিসি

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৬:১০

কবর দেওয়ার জন্য নয় বরং কবর সংরক্ষণকে নিরুৎসাহিত করতে ডিএনসিসি কবর সংরক্ষণ ফি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কবরস্থানে কবর দেওয়ার ফি বাড়ানো হয়নি। বরং কবর সংরক্ষণের জন্য ফি বাড়ানো হয়েছে। কবর সংরক্ষণে নিরুৎসাহিত করতেই মূলত সংরক্ষণ ফি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিনিয়ত বিপুল সংখ্যক আবেদন আসে কবর সংরক্ষণের জন্য। এভাবে কবর সংরক্ষণ করা হলে কবর দেওয়ার জায়গা কমে যাবে। আশা করছি, ফি বৃদ্ধির কারণে কবর সংরক্ষণের আবেদন অনেক কমবে এবং সাধারণ মানুষ কবর দেওয়ার সুযোগ পাবে।

শুক্রবার উত্তরা ৪নং সেক্টর কবরস্থান উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসির কবরস্থানে জনগণ সীমিত ফিতে দাফনের সুযোগ পাচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ডিএনসিসির আওতাধীন কবরস্থানে প্রতিটি মৃতদেহ দাফন বাবদ রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র পাঁচশত টাকা এবং দুঃস্থ, অসহায় ও বিত্তহীন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ ফি মাত্র ১০০ টাকা। এছাড়াও কেউ যদি ১০০ টাকাও পরিশোধ করতে অপারগ হয় তার জন্য বিনামূল্যে দাফনের সুযোগও রয়েছে।

এ সময় তিনি বলেন, কবরস্থানসহ অন্যান্য স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি জনগণকে, কমিউনিটিকে এগিয়ে আসতে হবে। এলাকাবাসী ও সোসাইটির নেতৃত্বে সিটি কর্পোরেশনের স্থাপনা, ফুটপাত, মাঠ, পার্কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। নির্মাণকাজের জন্য গাছ কাটা যাবে না। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি গাছ না কেটে কাজ সম্পন্ন করতে। আমরা সাধারণত একটি গাছ কেটে ৩টি গাছ লাগানোর কথা বলি। কিন্তু এখন বলছি গাছ না কেটেই ৩টি গাছ লাগাবেন।

এ সময় ডিএনসিসির আওতাধীন কবরগুলোর ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে বলেও ঘোষণা দেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তরা ৪নং সেক্টর কবরস্থানটিতে চতুর্দিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী, মার্বেল ফ্লোরসহ দৃষ্টি নন্দন দুই তলা বিশিষ্ট মসজিদ ভবন, কবরস্থান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আধুনিক অফিস ভবন, প্রয়োজনীয় ওজুখানা ও পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ ওয়াকওয়ে (৮০০ মিটার), পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক লাইটিং ব্যবস্থা, রোদ-বৃষ্টির জন্য কবরস্থানের অভ্যন্তরে ৫টি ওয়াকওয়ে, মৃত ব্যক্তির গোসলের সু-ব্যবস্থা, জানাজার জন্য খাটিয়া রাখার আলাদা প্ল্যাটফর্ম, ১টি দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ গেট, কবরস্থানের পূর্ব ও পশ্চিমে এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ২টি পকেট গেট, কবরস্থানে চারিদিকে বাউন্ডারিফেন্সে আরবি হরফে সুদৃশ্য ক্যালিগ্রাফি, কবরস্থানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও অন্যান্য গাছ (প্রায় ৭০০টি), কবরস্থানের বাইরের চারদিকে পায়ে হাঁটার পথসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে।

উত্তরা ৪ নং সেক্টর কবরস্থানে মোট আয়তন-১.২২৮ একর, উন্নয়ন কাজের ব্যয়-৪.৬৭ কোটি টাকা, মোট কবরের সংখ্যা-৫০০৮টি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলকার নায়ন, ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান প্রমুখ।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading