চরম সঙ্কটে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়ার মানুষ
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:০০
উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করছে এমন একটি বেসামরিক ত্রাণ সংস্থা হোয়াইট হেলমেট-এর প্রধান রায়েদ আল-সালেহ জাতিসংঘের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, ‘ভূমিকম্পের পর জাতিসংঘের পদক্ষেপ ছিল খুবই বাজে।’
জাতিসংঘ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের প্রথম ত্রাণবাহী গাড়িবহর তুরস্ক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ওই অঞ্চলে প্রবেশ করে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
‘হোয়াইট হেলমেট’ বলছে, ওই রসদ ভূমিকম্পের আগে সেখানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল এবং উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য জরুরি রসদ তাতে ছিল না।
ইডলিব থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে জেনেভায় জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সময় আল-সালেহ বলেন, ‘ভূমিকম্পের ১০০ ঘণ্টা পর যে ত্রাণ বহর উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় পৌঁছেছে তাতে ছিল মাত্র ছয় ট্রাক ভর্তি সাহায্য সামগ্রী। এগুলো ভূমিকম্পের আগেই সেখানে যাওয়ার কথা ছিল।’

তুরস্ক থেকে সিরিয়া পর্যন্ত স্থল সীমান্তের ক্রসিংগুলো রাশিয়ার পীড়াপীড়িতে কমিয়ে আনা হয়েছে। যার ফলে বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয় ভূখণ্ডের কিছু অংশে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ বিতরণ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রাশিয়া বলেছে, সাহায্য সামগ্রীগুলো দামেস্কের সরকারের মাধ্যমে যাওয়া উচিত। কিন্তু ‘হোয়াইট হেলমেট’ গত শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দাবি করেছে ভূমিকম্পের পর সিরিয়ার সরকার উত্তর সিরিয়ায় কিছুই পাঠায়নি।
আল-সালেহ আরও কিছু মানবিক করিডোর খোলার জন্য জাতিসংঘকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা রাশিয়াকে রাগাতে চায়নি বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সংস্থার প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস এ সপ্তাহান্তে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় যাচ্ছেন। তবে এই সফরের সময় তিনি ‘হোয়াইট হেলমেট’ কর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ভূমিকম্প আঘাত হানার পর চার দিন পার হয়েছে। সাহায্যের অভাবে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার পরিস্থিতি মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে বিবিসির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন।
উত্তর সিরিয়ার একটি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ হাসাউন বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘ভূমিকম্পের পর এখন তাদের কাছে যে চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে তা দেশের উত্তরাঞ্চলের ২০ শতাংশ মানুষের চাহিদাও পূরণ হবে না।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপি শুক্রবার জানিয়েছে- উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায়, যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে খাদ্যের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
ইউডি/এ

