রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা, ‘বেটার অপশন আর ছিল না’
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৯:০০
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হতে যাওয়া মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত অনুগত উল্লেখ করে বিএনপি নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, আওয়ামী লীগের জন্য এর চেয়ে বেটার অপশন আর ছিল না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল। গণমাধ্যমে অনেকের নাম এসেছিল। কেউ বলছিলেন চমক থাকবে, কেউ বলছিলেন দেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হবেন, কেউ বলছিলেন একেবারে দলীয় অনুগত ব্যক্তি ছাড়া কাউকে দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নামও শোনা যাচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নাম খুব শক্তভাবেও এসেছিল। এ রকম নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল। এমনকি গণমাধ্যমও একেবারেই আঁচ করতে পারেনি, কে হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। আমাদেরও সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেছেন, আমরাও একেবারেই অন্ধকারে ছিলাম। কারণ, যিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছেন তার ব্যাপারে একবারও আলোচনা হয়নি। কোনো গণমাধ্যমে তার নাম আসেনি, এমনকি দূরতমভাবেও আসেনি। এটা একটা বিরাট বড় চমক ছিল নিঃসন্দেহে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের জন্য এর চেয়ে ভালো, এর চেয়ে বেটার অপশন আর ছিল না।
বিএনপি নেত্রী বলেন, উনি (সাহাবুদ্দিন চুপ্পু) একদিকে অত্যন্ত অনুগত। আনুগত্যের পরিচয় দিচ্ছেন সেই সুদূর অতীত কাল থেকে। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, পরে জেলা যুবলীগের সভাপতি হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের একটি উপকমিটির প্রধান এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাদের একজন। সুতরাং তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বিএনপির এই নেত্রী বলেন, তিনি যে শুধু একান্ত অনুগত তা-ই নয়, তিনি কিন্তু আওয়ামী লীগের হয়ে সাহসিকতার পরিচয়ও দিয়েছেন। পঁচাত্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা খন্দকার মোশতাকের কেবিনেটে শপথ নিতে দুই মিনিটও চিন্তা করেননি। কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একেবারেই ব্যতিক্রম। তিনি বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটে না থাকলেও তখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে খুব শক্তভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি (বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড) প্রতিবাদ করে কারাগারে যান এবং তিন বছর কারাগারে ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে একটা বিষয় প্রমাণিত হয়—স্রোতে গা ভাসানো আওয়ামী লীগের যে সুবিধাভোগীরা আছেন, তিনি তাদের একজন নন। তিনি সাহসী ব্যক্তি এবং তিনি আওয়ামী লীগের জন্য জান বাজি রেখে প্রতিবাদও করতে জানেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, উনার আইনের ব্যাপারেও সম্যক ধারণা আছে। উনি জেলা দায়রা জজ ছিলেন। সামনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে আইন, সংবিধান এবং নির্বাচন সংক্রান্ত যে আইন-বিধিগুলো আছে, এসব ব্যাপারে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে আওয়ামী লীগের জন্য এটা একটা স্বস্তির বিষয়। সেদিক থেকে বিবেচনা করলেও তিনি অতুলনীয়।
ইউডি/এ

