‘আগে ব্রয়লার খেতাম না, এখন কিনতে পারি না’

‘আগে ব্রয়লার খেতাম না, এখন কিনতে পারি না’

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১২:২০

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাড়তি মূল্য এখন যে গলার কাঁটা। সাধারণ মানুষের মাংসের চাহিদা পূরণ করা ব্রয়লার মুরগিও এখন সাধ্যের বাইরে। যার কেজি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা।

শুক্রবার (১০ মার্চ) সকালে বেসরকারি চাকরিজীবী আকমল হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, আগে ব্রয়লার খেতাম না, এখন কিনতে পারি না।

শুধু কি মুরগি। বাজারে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও গরুর মাংস বিক্রি হতো ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকায়। খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১১শ’ টাকায়। পূর্বে যার দাম ছিল ১ হাজার টাকা।

সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা দরে। সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

সবজির বাজারেও নেই স্বস্থি। রাজধানীর বিভিন্ন কাচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে ফুলকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৮০-৯০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লাউ প্রতিটি আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা ও ধুন্দুল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়।

পেঁয়াজের কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বড় রসুন ১৪০ টাকা আর ছোট রসুনের বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। বাজারে আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়।

আলুর দামে রয়েছে কিছুটা স্বস্থি, বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। বাজারে খোলা চিনি প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। খোলা আটার কেজি ৬০ টাকা। প্যাকেট আটার কেজি ৬৫ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

দেশি মসুরের ডালের কেজি ১৪০ টাকা। ইন্ডিয়ান মসুরের ডালের কেজি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। সয়াবিন তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৮৭ টাকায়। লবণের কেজি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

বাজারে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম একটু কমেছে। ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ১৯০-২০০ টাকা।

মুরগি ব্যবসায়ী শরিফ উদ্দিন বলেন, গত ২০-২৫ দিন ধরে মুরগির দাম বাড়তি। গরু-খাসির দাম বাড়তি থাকায় সাধারণ মানুষ এই মুরগিই বেশি কিনত। আগে যে পরিমাণ বেচতাম, গত ২ সপ্তাহে বেচা-বিক্রি তার অর্ধেকে নেমেছে। আজকের বাজারেও আমাদের মুরগি কিনতে হয়েছে ২৩৫ টাকায়। বিক্রি করছি ২৫০ টাকায়। এই ১৫ টাকার মধ্যেই আমার দোকানের যাবতীয় খরচ, আমাদের লাভটা থাকে কই? দোকানে এনে মুরগিকে তো খাবার দিতে হয়, সেটার দাম তো আরও আগে থেকে বেড়েছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading