কোন কোন সুবিধা হারাচ্ছেন রাহুল গান্ধী?
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ২১:০০
সাধারণত, সাবেক সংসদ সদস্যদের সময় দেওয়া হয় বাংলো খালি করার জন্য। তবে লোকসভা হাউজ প্যানেল শিগগিরই রাহুল গান্ধীকে এই বাংলো ছাড়ার জন্য নোটিশ ধরাতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ২০০৪ সালে উত্তরপ্রদেশের অমেঠী থেকে এমপি হওয়ার পরই ওই বাংলো পান তিনি। ২০১৯ সালে আমেঠিতে হারলেও কেরালার ওয়ানাড আসন থেকে জিতে সংসদে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।
এদিকে রাহুল গান্ধী মাসিক ১.৯ লাখ টাকা ভাতা পাবেন না এই মাস থেকে। তবে প্রাক্তন সংসদ সদস্য হিসেবে বেসিক ২৭ হাজার টাকা মাসিক ভাতা, এবং যতবারের এমপি, ততবারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে পাবেন। অর্থাৎ, চারবারের সংসদ সদস্য হওয়ায় প্রাক্তন এমপি ভাতার পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা করে পাবেন রাহুল গান্ধী। রাহুল ২০০৪, ২০০৯, ২০১৪ সালে আমেঠি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে কেরালার ওয়ানাড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
এদিকে রাহুল গান্ধীর লাল রঙের ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট খারিজ হয়ে যাবে। এই পাসপোর্টের ফলে রাহুল অনেক অনায়াসে ইমিগ্রেশন পার করতে পারতেন। এদিকে বছরে ৩৪টি ফ্রি বিমান যাত্রার সুযোগ আর পাবেন না রাহুল গান্ধী। তবে সাবেক এমপি হিসেবে বিনামূল্যে রেল যাত্রা করতে পারবেন তিনি। তার সঙ্গে এক সঙ্গীকেও বিনামূল্যে নিতে পারবেন রাহুল। এদিকে রাহুল গান্ধীর জেড প্লাস নিরাপত্তা হয়ত কমানো হবে না। কারণ সেটা তিনি এমপি হিসেবে পান না, বরং তার জীবনের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে সেই নিরাপত্তা তাকে দেওয়া হয়।
গত পরশু গুজরাটের আদালত রাহুল গান্ধীকে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। এরপরই রাহুলের সংসদ সদস্য পদ খারিজ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এরপরই শুক্রবার লোকসভার সচিবালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কংগ্রেস নেতার এমপি পদ খারিজের কথা ঘোষণা করা হয়।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রাহুল বলেছিলেন, ‘সব মোদীরা কেন চোর হয়?’
এতে ‘মোদী’ পদবীর সকলের অপমান হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই মর্মে সুরাটের এক আদালতে রাহুল গান্ধীর নামে মামলা হয়েছিল। সেই মামলারই রায় দিয়ে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘রাহুল গান্ধী দোষী।’
আইন অনুযায়ী, কোনও জনপ্রতিনিধি যদি দুই বা তার অধিক বছরের জন্য কারাদণ্ডের সাজায় দণ্ডির হন, তবে তাৎক্ষণিক তার পদ খারিজ হবে। এই কারণে রাহুল গান্ধীর সংসদ পদ খারিজ হয় আজ।
এদিকে রাহুল দায়রা আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারবেন না, কারণ এটা ফৌজদারী মামলা ছিল। তবে বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করে কংগ্রেস গুজরাট হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে।
ইউডি/এ

