জাতীয় কবির গেজেটের আদেশ পিছিয়েছে

জাতীয় কবির গেজেটের আদেশ পিছিয়েছে

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৭:০০

কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি করে গেজেট প্রকাশ করতে দায়ের করা রিটের আদেশ পেছানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির পর এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

রিটকারী আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। আমি আদালতে উপস্থিত ছিলাম। সিরিয়াল অনুযায়ী আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে এপিয়ার করায় শুনানি ও আদেশের জন্য অবকাশকালীন ছুটির পর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ২২ জুন সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করা হয়। ওইদিন সকালে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেন রিটকারীরা। ওই রিটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। পরে ১০ জন আইনজীবীর পক্ষে সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসাদ উদ্দিন।

নোটিশের বিষয়ে আসাদ উদ্দিন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম মৌখিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। বলা হয়ে থাকে, ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার আলবার্ট হলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সর্বভারতীয় বাঙালিদের পক্ষ থেকে কবিকে জাতীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে মুখে মুখে তিনি জাতীয় কবি হয়ে আছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করে কোনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কোনো মৌখিক বিষয় নয়।

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়। বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিতে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়। সবকিছুরই ছবি, তথ্যসহ লিখিত দলিল আছে। কিন্তু নির্মম সত্য এটিই যে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে সরকারি ঘোষণার কোনো লিখিত দলিল বা প্রমাণ নেই।

বাংলাদেশের দুটি আইনে জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। এমন স্বীকৃতি কালের পরিবর্তনে মুছে যেতে পারে। আগামীর প্রজন্ম একদিন হয়তো নাও জানতে পারে যে, আমাদের জাতীয় কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আমাদের ইতিহাসের অংশ। ইতিহাস ও জাতীয় স্বীকৃতি কখনও অলিখিত থাকতে পারে না।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading