রাজধানীতে ৫ বছরে ট্রাফিক বিভাগের ৩৮৬ কোটি টাকার মামলা

রাজধানীতে ৫ বছরে ট্রাফিক বিভাগের ৩৮৬ কোটি টাকার মামলা

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩ । আপডেট ১২:০০

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলাচল করা যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে জরিমানার টাকার পরিমাণও। ট্রাফিক বিভাগের তথ্য বলছে, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে ৪৭ লাখ ৫৩ হাজার ৪০২টি মামলায় ৩৮৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৪০৯ টাকা জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে ৩৪৬ কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৫ টাকা জরিমানা আদায় হয়।

যদিও গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২০, ২১ ও ২২ সালে মামলার সংখ্যা কম হলেও জরিমানার টাকার পরিমাণ বেড়েছে। যারাই সড়কে যানবাহনের মামলায় পড়েছেন তাদেরকে নতুন আইনে বেশি জরিমানা দিতে হচ্ছে।

২০১৮ সালের সড়ক নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অপরাধের মামলায় জরিমানার পরিমাণ বেড়েছে। সড়কে কোনও ধরনের অনিয়ম ঘটলেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বড়-ছোট যে কোনও যানবাহনের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করছেন। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের (দক্ষিণ) যুগ্ম-কমিশনার মেহেদী হাসান বলেন, সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। জরিমানা করার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন আইনে দ্বিতীয়বার জরিমানায় পড়লে তাকে দ্বিগুণ জরিমানা করা হচ্ছে।

ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২২ সালে ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক সার্জেন্টরা ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩৬টি মামলা দায়ের করেন। জরিমানার পরিমাণ ৬৮ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৫৬৮ টাকা। ২০২১ সালে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯১১টি মামলা হয়। জরিমানা করা হয় ছয় কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ টাকা। ২০২০ সালে এক লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮টি মামলা হয়। জরিমানা করা হয় ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৩২ হাজার ১০০ টাকা। ২০১৯ সালে ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৮টি মামলায় জরিমানা করা হয় ৮৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫ টাকা। ২০১৮ সালে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৬টি মামলায় জরিমানা করা হয় ৮৬ কোটি ৯ লাখ ৪০১ টাকা। ২০১৭ সালে মামলা হয় ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩টি। সে সময় জরিমানা করা হয় ৫৮ কোটি ৬৬ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৪ টাকা।

মামলা নিষ্পত্তি ও জরিমানার টাকা আদায়ের বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩৬টি মামলা হলেও যানবাহন সংশ্লিষ্টরা ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫২টি মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে জরিমানা দেয় ৫৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩ হাজার ৭২১ টাকা। বাকিরা জরিমানার টাকা দেননি। ফলে তাদের যানবাহনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলারও নিষ্পত্তি হয়নি। ২০২১ সালে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯১১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩১২টি যানবাহনের মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। মোট ৫০ কোটি ৯৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৩ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ২০২০ সালে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮টি মামলার মধ্যে এক লাখ ৩৮ হাজার ১২৭টি মামলা নিষ্পত্তির পর জরিমানা আদায় হয় ২৩ কোটি ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ১৩৭ টাকা। ২০১৯ সালে ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ১৭ লাখ ২ হাজার ঊনচল্লিশটি মামলা নিষ্পত্তি করে ৮২ কোটি ৫৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ২০১৮ সালে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৬টি মামলার প্রেক্ষিতে ১১ লাখ ২১ হাজার ৮৯৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। জরিমানা আদায় হয় ৭৮ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩৫ টাকা। ২০১৭ সালে ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩টি মামলা হলেও ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩৬টি মামলা নিষ্পত্তির পর জরিমানা আদায় হয় ৫৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫৪ টাকা।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রাফিক বিভাগে ৪৭ লাখ ৫৩ হাজারটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় জরিমানা করা হয় ৩৮৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৪৪০৯ টাকা। দায়ের করা মামলার মধ্যে ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৪টি মামলা নিষ্পত্তির পর জরিমানা আদায় হয় ৩৪৬ কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৫ টাকা।

গত ৬ বছরে বিভিন্ন গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হলেও ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৩৮টি মামলা এখনও চলমান। ৪০ কোটি ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৪ কোটি জরিমানার টাকা এখনও পরিশোধ করেননি যানবাহন সংশ্লিষ্টরা। যেসব গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সেসব গাড়ির তথ্য প্রতিটি ট্রাফিক বিভাগে রয়েছে। বিভিন্ন সময় সেসব গাড়িকে চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলছে ট্রাফিক বিভাগ।

এ বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান বলেন, যেসব যানবাহনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ট্রাফিক বিভাগ থেকে মামলা দায়ের করা হয় সেসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত একটি তারিখ থাকে। নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে গেলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে ওয়ারেন্ট জারি হয়। পরবর্তীতে সেসব মামলার বিষয়ে আদালত যে ধরনের নির্দেশনা দেন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading