প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন: বিএনপি আন্দোলনের টাকা কোথা থেকে পাচ্ছে ?

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন: বিএনপি আন্দোলনের টাকা কোথা থেকে পাচ্ছে ?

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩ । আপডেট ১৫:৩০

বিএনপির আন্দোলনের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কার কথায় আন্দোলন করছে, কোথা থেকে টাকা পাচ্ছে? বাংলাদেশের মানুষ কি অন্ধ হয়ে গেছে? হাজার হাজার কোটি টাকা তো লোপাট করে নিয়েই গেছে। সোমবার (১৫ মে) গণভবনে তার সা¤প্রতিক ত্রিদেশীয় সফরের (জাপান, আমেরিকা, ব্রিটেন) অভিজ্ঞতা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন তোলেন। এছাড়াও সরকারপ্রধান দেশের রিজার্ভ, আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের চুম্বক অংশ নিয়ে আরেফিন বাঁধনের প্রতিবেদন

নির্বাচনকালীন সরকার হলেও বিএনপি’র সুযোগ নেই

বিএনপি’র প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা কার পয়সায় আন্দোলন করছে? কোথা থেকে টাকা পাচ্ছে? ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের ২০ দলীয় ঐক্যজোট সিট পেয়েছে মাত্র ২৯টি। এখন তারা আবার বড় বড় কথা বলে। কার পয়সায় এই আন্দোলন করছে? কোত্থেকে টাকা পাচ্ছে?
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠন করা হলেও সংসদে না থাকায় বিএনপির সেই সরকারে থাকার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এইটুকু উদারতা দেখাতে পারি, পার্লামেন্টে সংসদ সদস্য যারা আছে, তাদের মধ্যে কেউ যদি ইচ্ছা পোষণ করে নির্বাচনকালীন সময়ে তারা সরকারে আসতে চায়, সেটা আমাদের মধ্যে আছে। তিনি আরও বলেন, এমনকি ২০১৪ সালে খালেদা জিয়াকেও আমরা আহ্বান করেছিলাম, তারা তো আসেনি। এখন তো তারা নাইও পার্লামেন্টে, কাজেই ওটা নিয়ে চিন্তারও কিছু নেই।শেখ হাসিনা বলেন, “নির্বাচনকালীন সরকার, আমরা ওয়েস্টমিনস্টার টাইপ অব ডেমোক্রেসি ফলো করি, তারা যেভাবে করে আমরা সেভাবেই করব।নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখন সংবিধানে নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হয়। ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, তবে তিন মাসের ক্ষণ গণনা শুরু হলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এত অন্ধ হয়ে গেছে? চোখে দেখে না? হাজার হাজার কোটি টাকা যে লুট করে নিয়ে গেছে আর কাদের মদতে করছে, সেটা একটু খোঁজখবর নেন না। এত টাকা কোথায় পাচ্ছে? প্রতিদিন লোক নিয়ে আসে আর প্রতিদিন মাইক লাগিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছে। এমনি এমনি বিনা পয়সায় তো আর হচ্ছে না। কত দিচ্ছে, কত লোক আনবে, মোটরসাইকেলে কতজন আসবে সেসব হিসাব তো আছে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার হবে স্মার্ট বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। ইকনোমি স্মার্ট হবে, জনগণ যখন ডিজিটালের সুবিধা পাবেন। তখন যেটা হবে সেটাই স্মার্ট বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোনো দারিদ্র থাকবে না। পুরো বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। দেশের কাজ যত ভালই হোক কোনকিছু তারা দেখতে পায় না। এটা তাদের হীনমন্যতা। হয় তাদের জ্ঞানের অভাব, অথবা তাদের দুরভিসন্ধি। রাজনীতি যখন করি, এগুলো থাকবেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যখন বাংলাদেশের সরকার গঠন করলাম। তখনকার অবস্থা আর বর্তমান অবস্থা দেখলেই তো বাংলাদেশের জনগণ বুঝতে পারে দেশ কতটা এগিয়েছে। অতি দরিদ্রের হার ২৫ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।

আওয়ামী লীগের লোগো


শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ব্যবস্থা করেছি। ডিজিটালাইজ করার যতকিছু দরকার, করে দিচ্ছি। জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মহামারির সময় পোশাক শ্রমিকদের টাকা দিয়েছি, কোনো মালিকের হাতে টাকা দেইনি। শ্রমিকের এনআইডি ও মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের অর্থনীতি পুরো ডিজিটাল হবে। এখন অনলাইনে চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা হচ্ছে। আমাদের যে আট হাজার পোস্ট অফিস, প্রতিটিকে ডিজিটাল করে দেওয়া হয়েছে। ইকনোমি স্মার্ট হবে, জনগণ যখন ডিজিটালের সুবিধা পাবেন। তখন যেটা হবে সেটাই স্মার্ট বাংলাদেশ। আমাদের আগামী নির্বাচনের ইশতেহার হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। এখনই বলে দিলাম।

রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ দেখছেন না সরকারপ্রধান

বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এখন যে পর্যায়ে আছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমাদের সেইটুকু থাকা দরকার, যদি কোনো আপৎকালীন সময় হয়, যেমন এই ঝড় ঝঞ্ঝা এরকম ক্ষেত্রে, আমাদের খাদ কিনতে যদি ঘাটতি দেখা দেয়, সেই খাদ্য কেনার মত, অর্থাৎ তিন মাসের খাদ্য কেনার মত ডলারটা যেন আমাদের হাতে থাকে। ওইটা নিয়েই রিজার্ভের জন্য চিন্তা। এছাড়া রিজার্ভের এত চিন্তা না। সরকারপ্রধান বলেন, ডলার সঙ্কট এখন পুরো বিশ্বব্যাপী, এটা শুধু বাংলাদেশে না। প্রথম গেল করোনা অতিমারী, আর তারপর ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধ, আর সেই যুদ্ধের সাথে স্যাংশন, কাউন্টার স্যাংশন। যার ফলে আজকে সারা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে বেড়ে গেছেৃ। দ্বিতীয় হচ্ছে পরিবহন, পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে, যার কারণে ডলার সঙ্কটটা এখন সমগ্র বিশ্বেই রয়ে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা অতিমারীর মধ্যে যেটা হয়েছিল যে আমদানি রপ্তানি বন্ধ, বিদেশে যাতায়াত বন্ধ, সবকিছু বন্ধ থাকাতে খরচও আমাদের কম ছিল, ভ্যাকসিন কিনতেই যা ডলার লেগেছিল, বাকি আমরা খুল ভালোভাবে একটা রিজার্ভ রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু এরপর যখন আবার অর্থনীতি উš§ুক্ত হল, স্বাভাবিকভাবেই সেই সুযোগটা থাকেনি, ডলার খরচ হচ্ছে এবং হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, স্যাংশনের ভয়ে বসে থাকবো কেন?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের কী কারণে স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেবে? যাদের দিয়ে (র‌্যাব) আমরা সন্ত্রাস দমন করলাম, জঙ্গিবাদ দমন করলাম। হলি আর্টিজানের পর বাংলাদেশে আর তেমন কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। কারণ, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি এবং আরও কিছু ভালো কাজ করেছে। যার ফলে আর কিছু তেমন হয়নি। এরপরও স্যাংশন কেন? সেটাই আমাদের প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো অর্থ মন্ত্রণালয়কে, কেনাকাটার বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে বলে দিয়েছি। এখন থেকে আমাদের শর্ত থাকবে, যারা আমাদের স্যাংশন দেবে তাদের থেকে আমরা কোনও কিছু কেনাকাটা করবো না। পরিষ্কার কথা। এখানে ভয়ের কী আছে? যেটা নিয়ে সমস্যা হয় সেটা আমরা উৎপাদন করে সমাধান করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী যেখানে মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যের অভাব, উন্নত দেশে খাবার কেনা সীমিত করে দেওয়া হচ্ছে, যারা বড়লোক তাদের অসুবিধা নাই, সাধারণ মানুষের তো অনেক অসুবিধা হচ্ছে। সেদিক থেকে আমরা তো আমাদের মানুষকে প্রণোদনা দিয়েছি। রোজার সময় তো মানুষের হাহাকার শোনা যায়নি।

‘সামরিক স্বৈরশাসকদের হাতেই নদীর সর্বনাশ’

সামরিক স্বৈরশাসকদের সময়ে ঢাকার নদী-খাল ভরাট করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু উদ্ধার করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারা নদীখেকো তাদের খুঁজে বের করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীখেকোর কথা বলতে গেলে আগে সামরিক স্বৈরশাসকদের কথা বলতে হয়। আইয়ুব খানের আমল থেকে শুরু, এরপর জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া। তারা যে সময়ে এসেছে নদীগুলোর সর্বনাশ করে দিয়ে গেছে। হাউজিং করা হয়েছে জলাধারের উপরে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা কিছু কিছু রক্ষা করেছি। অনেক প্রকল্প আমি বাতিল করে দিয়েছি। আমি কিন্তু বলছি জলাধার রেখেই কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্প করা যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পান্থপথ এক সময় খাল ছিল। এখন যেখানে বসুন্ধরা, সুন্দরবন হোটেল সেখানে বিল ছিল। ধানমন্ডি মিরপুর রোড পর্যন্ত নৌকা আসতো। পান্থপথ খাল বন্ধ করে দেওয়া হলো। ঢাকায় হাতিরঝিল খাল, সেগুনবাগিচা খাল, শান্তিনগর খালসহ বিভিন্ন খাল ছিল। সেখানে নৌকা চলাচল করতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে সেই সব খালকে বক্স কালভার্ট করা হয়। যতদিন ঢাকায় পুকুর আর খাল ছিল ততদিন ঢাকার বাতাস ঠান্ডা ছিল। সেই পুকুর, খাল বন্ধ, বড় বড় দালান, আর খালগুলো বক্স কালভার্ট। আমি ক্ষমতায় আসার পর দুইটা রক্ষা করতে পেরেছি।তিনি আরও বলেন, ঢাকা পুরাটা কিন্তু খালের নেটওয়ার্ক ছিল। এগুলো রেখেই কিন্তু উন্নয়ন করা যেতো।

জাতীয় স্বার্থকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয়ার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা জনগণের সেবক। আমিও সরকার গঠন করার পর আমার বাবার মতো বলেছিলাম, আমি জনগণের সেবক। আমি শাসক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে কাজ করি। তিনি বলেন, এদেশের মানুষের সেবা করাই আমরা একমাত্র কাজ। মানুষকে সুন্দর জীবন দেওয়া, সেটাই আমার একমাত্র কাজ। সেইভাবে কিন্তু আমি এই দেশটাকে পরিচালনা করছি। সোমবার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১২৭, ১২৮ এবং ১২৯-তম আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সসমূহের সমাপনী ও সনদ-বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
জাতির পিতার একটি ভাষণ থেকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মচারী ভাইয়েরা, আপনাদের জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। এখন থেকে অতীতের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করে নিজেদের জনগণের খাদেম বলে বিবেচনা করতে হবে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৬ মে ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা


তিনি বলেন, একজন মা যেমন একটি সংসারকে আগলে ধরে সবার ভালো দেখতে চান, আমি কিন্তু সেই মানসিকতা নিয়ে দেশটাকে পরিচালনা করে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। এখান থেকে যেন আর আমাদের পিছিয়ে যেতে না হয়। সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে।শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায়। মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির হাত থেকে যেন মানুষ মুক্তি পায়। এগুলো সমাজটাকে নষ্ট করে, একেকটা পরিবারকে নষ্ট করে। সেদিকে আমাদের বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দেওয়া একান্ত ভাবে দরকার। তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের তরুণ প্রজন্ম দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading