ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক

ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৯ মে ২০২৩ । আপডেট ১৪:০০

চলতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বাড়ছে। গত বছরের এই সময়ে পাঁচশ’র নিচে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও চলতি বছর একই সময়ে তা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ নিয়ে আসাদ এফ রহমান’র প্রতিবেদন

এখনই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ, বলছে অধিদপ্তর

দেশে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা অন্যান্য বারের প্রাক মৌসুমের চেয়ে অনেক বেশি। ডেঙ্গুর এমন প্রকোপ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, শুরুতেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা বেশি। তাই প্রাক-মৌসুমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রবিবার (২৮ মে) অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির এমন শঙ্কার কথা বলেন।

তিনি সিটি করপোরেশনকে আরও বেশি তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান। গত বছর এ সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু না হলেও এ বছর ইতোমধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন। এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গত একদিনে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮ জন ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ জন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। রবিবার (২৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২০৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ১৭৭ জন এবং ঢাকার বাইরে ৫৯৪ জন। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৪৯ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৯৮৭ ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে ৫৬২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রকোপ বাড়ার নেপথ্যের কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞগণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক নাজমুল ইসলাম বলেন, নগরায়ণের কারণে ঢাকা মহানগরে রোগীর সংখ্যা বেশি। আমাদের পরিসংখ্যান না দেখে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা শহরে ৯ ধরনের গবেষণা করে থাকি। এসব গবেষণার মাধ্যমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখি এবং পরামর্শ ও চিকিৎসা দিয়ে থাকি। তিনি আরও বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় যেখানে ঘনবসতি সেখানে মশার উপদ্রব বেশি। তবে আমরা পুরো ঢাকা শহরকেই বিবেচনায় নিচ্ছি। আমাদের কাজ রোগী ব্যবস্থাপনা। ডেঙ্গু কোথায় বেশি এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের। ঢাকা শহরে ব্রাজিলের মতো অপরিকল্পিত নগরী গড়ে উঠছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, এর ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আমরা প্লাটিলেটকে সামনে আনি, অথচ এটি সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের উচিত সচেতনতায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।

ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষার ফি নির্ধারণ, না মানলে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা করাতে ১০০ টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতালে এই পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্ধারিত ফি এর চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির।
এসময় ডা. কবির বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষা মূল্যসহ এর চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করে দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইন অনুযায়ীই সবাইকে চিকিৎসা দিতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে করণীয় কী হবে, প্রতিটি হাসপাতালকে সেই নির্দেশনাও দেওয়া আছে। রোগী বেড়ে গেলে চিকিৎসা যাতে ব্যহত না হয়, সেজন্য অতিরিক্ত আবাসিক চিকিৎসক এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দিতে হবে।

হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারির ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডা. কবির। রাজধানীর বেশিরভাগ হাসপাতাল দক্ষিণে, উত্তর থেকে কোনো রোগী দক্ষিণের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিলে সঠিক হিসাব পাওয়া অনেক কঠিন বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তবে বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। যাতে করে রোগীর বাসার ঠিকানা দিয়ে কে কোন এলাকার রোগী- সেটা বের করতে পারেন। অচিরেই সেই কাজ শেষ হবে। তারপর প্রতিদিন সেটা গণমাধ্যমে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

প্লাটিলেট না ফ্লুইড, রোগীর জন্য কী দরকার ?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে প্রায় সবারই একটি ভুল ধারণা রয়েছে। কারো ডেঙ্গু ধরা পড়লেই আমরা প্লাটিলেটের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। কিন্তু ডেঙ্গু আসলে প্লাটিলেট ডিজঅর্ডার নয়। ডেঙ্গুতে ঝুঁকির কারণ হতে পারে প্লাজমা লিকেজ। এককথায় বলতে গেলে ডেঙ্গুতে প্লাটিলেটের কোনো ভ‚মিকা নেই। প্লাটিলেটের চেয়ে ডেঙ্গু রোগীর জন্য বেশি দরকার হয় ফ্লুইড। ডা. রোবেদ আমিন আরও বলেন, ডেঙ্গুর বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। ডেঙ্গুতে রোগী শকে চলে যেতে পারে, হেমারেজ হতে পারে। এমনকি অর্গান ইনভলমেন্টও হতে পারে, যা শরীরের বিভিন্ন অর্গানকে ইনভলব করে ফেলে। এটি অবশ্য সর্বোচ্চ মারাত্মক পর্যায়। এই অবস্থায় কেউ পৌঁছে গেলে সেই রোগীকে বাঁচানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

এডিসের বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দুই সিটির উদ্যোগ

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মশক নিধন কার্যক্রম। রবিবার (২৮ মে) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মুখপাত্র মকবুল হোসাইন জানান, ২৯ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। এদিকে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এডিসের বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে, মশক নিধন কার্যক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসির) সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও জাতীয় স্কাউট দল। মূলত তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে। বিভিন্ন অঞ্চলে ৪০০মিটার ৪০০মিটার গ্রিডে ভাগ করে এই সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণহীন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশা নিধন কর্মসূচি সারা বছর অব্যাহত রাখতে হবে। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, নির্মাণাধীন প্রায় শতভাগ ভবনে মশার লার্ভা পাওয়া যায়। সেগুলো যথাযথ তদারকি প্রয়োজন। নিজেরা এডিসের প্রজননস্থল নির্মূল না করতে পারলে, সিটি করপোরেশনকে জানাতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যত সুপারিশ

সকল সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ স্ক্রিনিংয়ের পর্যাপ্ত কিটের ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি বেড়ে গেলে আবাসিক চিকিৎসক ও আরএমও এর কক্ষে অতিরিক্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দিতে হবে। যাতে আগত ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যহত না হয়। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারির ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য প্লাটলেট প্রয়োজন হলে জাতীয় গাইড লাইন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। ২৪/৭ ল্যাব খোলা রাখতে হবে।

সরকারিভাবে ২১টি সেন্টারে প্লাটিলেট সরবরাহের ব্যবস্থা আছে, কোনো রোগীর প্লাটিলেট প্রয়োজন হলে নির্ধারিত ২১টি সেন্টার থেকে সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার সহযোগিতায় হাসপাতালের চারপাশ নিয়মিত পরিস্কার রাখতে হবে। হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ডাব বিক্রি বন্ধ করতে হবে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডেঙ্গু একটি ভেক্টর বাহিত রোগ বিধায় জিও লোকেশন ট্রেসিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মোবাইল নম্বর এবং পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা অবশ্যই সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করতে হবে। আইইডিসিআর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার যৌথ উদ্যোগে কন্ট্রোল রুম খুলতে হবে। আগ্রহী চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। এডিস মশার লার্ভা নিধনে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৯ মে ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ‘হটস্পট’, বাড়ছে উদ্বেগ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলতি বছরে ১ হাজার ৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে নিরাপত্তা জনিত কারণে এ ক্যাম্পে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা কঠিন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক নাজমুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১ হাজার ৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে নিরাপত্তা জনিত কারণে সেখানে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা কঠিন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানুষের ঘনত্ব বেশি এবং পানি সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে পানি পাত্রে জমিয়ে রাখা হয়, আর এই পানিতেই মশা জন্ম নেয়। তবে ভাষাগত সমস্যা ও ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ জনিত সমস্যার কারণে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেখানকার উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের টিম গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

নাজমুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় ওয়াসার পানি সঠিক ব্যবস্থাপনায় ধরে রাখা গেলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পানি সরবরাহের ব্যবস্থা খুব কম। ফলে তারা বিভিন্ন গর্ত থেকে পানি সংগ্রহ এবং অনেক সময় পানি খোলা পাত্রে রেখে দেয়। এছাড়া তাদের সচেতনতার বিষয়টি আরও কম। তিনি আরও বলেন, ঢাকায় জনগোষ্ঠী বেশি হলেও সেখানে জায়গা রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জায়গা কম মানুষ বেশি। ফলে সেখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত সেখানে ১ হাজার ৬৬ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading