চলতি মাসে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩ । আপডেট ১২:৪০
জুন মাসে এর আগে পৃথিবীর ‘উষ্ণতা’ এতটা বাড়েনি। চলতি মাসের প্রথম দু’সপ্তাহের গড় তাপমাত্রা দেখে এমন কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এমন কথা জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার
সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর সামান্থা বার্গেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘চলতি বছরের জুন মাস ‘উষ্ণতম’ হিসাবে নতুন নজির তৈরি করেছে।’ তিনি জানান, ১৯৫০ থেকে পাওয়া তাপমাত্রা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, চলতি জুন মাসে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা অন্তত ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন অংশে এল নিনো উষ্ণস্রোত, প্রবল তাপপ্রবাহ এবং মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ কমাতে ব্যর্থতার মতো কারণে এমনটা ঘটেছে বলে মনে করছে ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’।
এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ ২০১৯ সালের জুন মাসকে ‘উষ্ণতম’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিল।
জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীর চিরায়ত বাস্তুসংস্থান এবং প্রাকৃতিক চক্র বিনাশী এক দানব। মানবজাতির অপরিণামদর্শী দূষণের কারণেই এই বিপর্যয়কর পরিণতি নেমে আসছে।
২০১৯ সালের আগস্টে অর্থনৈতিক রেটিংস সংস্থা মুডিস জানিয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২১০০ সাল নাগাদ ১০০ লাখ কোটি ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হবে বিশ্ব। এসময় বিশ্বের তাপমাত্রা প্রথম শিল্প বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ের চাইতে দেড় ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়লে; ক্ষতি ৭৭ লাখ কোটি এবং ২ ডিগ্রী বাড়লে তা ১০০ লাখ কোটি ডলার হবে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।
বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, উষ্ণায়নের কারণে মারাত্মক তাপপ্রবাহ, ক্ষরা, বন্যা এবং সামুদ্রিক ঝড়ের প্রকোপ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরও বাড়বে।
মার্কিন বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা পরামর্শক সংস্থা ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোং-এর গবেষকরা ২০২০ সালের আগস্টে জানান, পৃথিবীর অন্য যে কোনো অঞ্চলের চাইতে এর ফলে এশিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবে। আর জনসংখ্যা ঘনত্ব এবং ভৌগলিক অবস্থানের ফলে প্রভাবটা বেশি পড়বে দক্ষিণ এশিয়ায়।
উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বায়ুদূষণের ফলে তৈরি তাপমাত্রা শোষণকারী গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ এসময় বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। এসময় কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রোজ অক্সাইডের পরিমাণ ১৯৯০ এর দশকের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বাড়ে। এভাবেই জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষুধা আমাদের গ্রহকেই বসবাসের অনুপযুক্ত করছে।
ইউডি/কেএস

