‘লিভার ক্যানসার’ শনাক্তকরণে যুগান্তকারী আবিষ্কার
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৪ জুলাই ২০২৩ । আপডেট ১৫:০০
সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রাথমিক পর্যায়ের লিভার ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব বলে দাবি করেছে হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এইচকেজি এপিথেরাপিউটিক্স, আইসিডিডিআর,বি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের কয়েকজন প্রখ্যাত চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীর সম্মিলিত একটি গবেষণা। এ নিয়ে সাদিত কবির’র প্রতিবেদন
সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত হবে লিভার ক্যানসার
লিভার ক্যানসার বিশ্বে এবং বাংলাদেশে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। লিভার ক্যানসারের ব্যাপকতা বিশ্বের সব দেশেই দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগ দেরিতে শনাক্ত হয়। ফলে এই রোগের চিকিৎসা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় যা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। তবে, উদ্ভাবিত এই রক্ত পরীক্ষা আধুনিক সিকোয়েন্সিং ও মাল্টিপ্লেক্সিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সাধারণ টিস্যু, রক্তের অন্যান্য নমুনা ও নন-লিভার ক্যানসার টিউমার থেকে লিভার ক্যানসার নমুনাকে আলাদা করে প্রচলিত রোগ নির্ণয় পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা দূর করতে পারে। গবেষণাটি আরও বলছে, পরীক্ষাটি সুনির্দিষ্ট ডিএনএ মিথাইলেশন সিগনেচার পদ্ধতিতে ঝুঁকিতে আছে এমন ব্যক্তিদের (লিভারের রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং অ্যালকোহল গ্রহণকারী) লিভার ক্যানসার শনাক্তকরণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। ফলে এই ধরনের ক্যানসারের সাথে সম্পর্কযুক্ত অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে আসবে।

এইচকেজি এপিথেরাপিউটিক্স
রবিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেল আয়োজিত ‘সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে লিভার ক্যানসার শনাক্তকরণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এইচকেজি এপিথেরাপিউটিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং কানাডার রয়্যাল সোসাইটির ফেলো প্রফেসর মোশে জিফ। এ সময় হেপাটাইটিস এবং লিভার ক্যানসার সম্পর্কিত বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন বিএসএমএমইউ’র ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। বিখ্যাত পিয়ার রিভিউড আন্তর্জাতিক জার্নাল নেচার কমিউনিকেশন্সে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক মাইলফলক, কমিয়ে আনবে ক্যানসারের প্রভাব’
গবেষণা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৫৫৪ জন অংশগ্রহণকারীকে গবেষণার আওতায় এনে এই পরীক্ষাটির মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল লিভার ক্যানসার রোগী, নন-লিভার ক্যানসার রোগী, ক্রনিক হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও সুস্থ ব্যক্তি। ফলাফল হিসেবে পরীক্ষাটিতে লিভার ক্যানসার শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ সেন্সিটিভিটি ও ৯৫ শতাংশ স্পেসিফিসিটি দেখা গেছে। এই গবেষণা ফলাফল প্রাথমিক পর্যায়ে লিভার ক্যানসার রোগের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গবেষণা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, যদিও বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তর গবেষণা প্রয়োজন, তবুও লিভার ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের এই অগ্রগতি একটি বিরাট পদক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করে। সেই সঙ্গে এটি লিভার ক্যানসার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ওপর রোগের প্রভাবকে অনেকাংশে কমিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। প্রাথমিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট ডিএনএ মিথাইলেশন সিগনেচার পদ্ধতিতে রোগটি শনাক্ত করা গেলে অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে আসবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
গবেষকরা আরও জানান, লিভার ক্যানসারের ব্যাপকতা বিশ্বের সব দেশেই দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগ দেরিতে শনাক্ত হয়। এর ফলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে যায়। বিএসএমএমইউর উপাচার্য প্রফেসর ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের সেমিনারটি লিভার ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য একটি মাইলফলক এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনন্য অগ্রগতিকে তুলে ধরেছে। আমরা সবাই এখানে লিভার ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে একত্রিত হয়েছি। বিশেষ ডিএনএ চিহ্নিতকারীর উপর ভিত্তি করে এই নতুন পরীক্ষা ঝুঁকিতে আছে এমন মানুষদের সাহায্য করার পাশাপাশি ক্যানসারের প্রভাব কমিয়ে আনবে বলে আমি আশা করছি। আইসিডিডিআর,বি’র বিজ্ঞানী ও গবেষণাটির প্রধান গবেষক ডা. ওয়াসিফ আলী খান বলেন, এই যুগান্তকারী অগ্রগতি লিভার ক্যানসার শনাক্তকরণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জীব বাঁচানোর ক্ষেত্রে এটির সম্ভাবনা অসাধারণ। এর মাধ্যমে ক্যানসার নির্ণয়সহ বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নয়নে আমাদের দলের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে। লিভার ক্যানসারের ব্যাপকতা কমাতে এবং দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতির লক্ষ্যে বাংলাদেশে এই পরীক্ষা কার্যকরী ভ‚মিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি।
২০৪০ সালের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বছরে ৫৫%
সা¤প্রতি একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, ২০৪০ সালের মধ্যে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বার্ষিক ৫৫ শতাংশ। ‘জার্নাল অফ হেপাটোলজি’ নামক মেডিক্যাল পত্রিকায় এমনই একটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী লিভার ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে। অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান করা, শরীরের বেশি ওজন, টাইপ ২ ডায়াবিটিস, এমন কিছু কারণে ঝুঁকি বাড়ে লিভার ক্যানসারের। পূর্ব এশিয়া, উত্তর আফ্রিকায় লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গবেষকদের মতে, লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার ক্রমশ বাড়বে। নামমাত্র খাওয়াদাওয়া, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, কম ঘুম, অত্যধিক কাজের চাপ লিভারের উপর প্রভাব ফেলে।

আইসিডিডিআর,বি
এছাড়া অত্যধিক হারে মদ্যপানও এর জন্য দায়ী। লিভার ভাল থাকে নিয়মে। প্রাত্যহিক অনিয়মে ক্ষতি হয় লিভারের। বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণতা লিভার ক্যানসারের আরও এক কারণ। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে লিভার ভাল রাখা অসম্ভব। তেল-মশলা, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে লিভার। যে কোনও বয়সে শরীরে হানা দিতে পারে এই ক্যানসার। তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নয়তো অকালমৃত্যুর ঝুঁকি থেকেই যাবে। লিভার সুস্থ থাকলে শরীরের অনেক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। শরীরের ভাল-মন্দ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে লিভার। তাই লিভার ভাল রাখাটা জরুরি। তার জন্য পরিমিত জীবনযাপন এবং খাওয়াদাওয়া করা প্রয়োজন। বাইরের খাবার খাওয়ার ঝোঁক কমাতে হবে। বেশি করে জল খেতে হবে। আরও ভাল হয়, যদি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা যায়।
দেশে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিভিন্ন রোগে মোট মৃত্যুর ২ দশমিক ৮২ শতাংশের কারণ লিভার বা যকৃতের নানা জটিলতা। আশঙ্কাজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। সম্প্রতি কার্নিভাল কেয়ার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বক্তারা জানান, স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্যসেবায় প্রভ‚ত উন্নতি সাধন সত্তে¡ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে এখনো অনেকাংশেই বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে। লিভার ক্যানসার চিকিৎসায় আরএফএ অর্থাৎ রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি অ্যাবলেশন, টেইস অর্থাৎ ট্রান্সআরটারিয়ালকেমো এমবোলাইজেশন, লিভার সিরোসিসের চিকিৎসায় আধুনিক স্টেম সেল থেরাপি, লিভার ডায়ালাইসিস এবং প্লাজমা এক্সচেঞ্জসহ সব লিভার রোগের অত্যাধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। যকৃত চিকিৎসায় গ্রাম ও শহরের চিকিৎসাসেবার এ বিভাজন দূর করায় অনলাইন সেবা ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা বলেন, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্নিভাল কেয়ার সম্পৃক্ত হয়েছে স্পেশালাইজড লিভার সেন্টারের। লিভার সিরোসিস রোগের অন্যতম প্রধান কারণ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়া। তবে আশঙ্কাজনক হলেও সত্য যে দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এছাড়া হেপাটাইটিসবি-তে আক্রান্ত দেশের প্রায় শতকরা ১০ শতাংশ মানুষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন জেলায় রয়েছে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের অসংখ্য রোগী। যারা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত।
দেশে ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস রোগ নির্মূল হবে কী
দেশের প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ভাইরাস বহন করছে এবং এদের সবাই জীবনের যে কোনো একটা সময়ে ‘লিভার সিরোসিস’ বা ‘লিভার ক্যানসারে’ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ যকৃত ক্যানসার ও সিরোসিস এই ভাইরাসের কারণে হয়। সরকারি তথ্য বলছে, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে যত রোগী ভর্তি হন, তাদের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ যকৃতের রোগে আক্রান্ত। তাদের বেশিরভাগই আবার হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসজনিত। পৃথিবীতে প্রতি ১২ জনে ১ জন মানুষ হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসে আক্রান্ত। তবে তাদের ১০ শতাংশ বিষয়টি জানেন না। হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসজনিত লিভার রোগের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ এবং প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন মানুষের মৃত্যু হয়।

দৈনিক উত্তরদিক্ষণ । ২৪ জুলাই ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা
তবে ডব্লিউএইচও’র লক্ষ্য ২০৩০ সালে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস নির্মূল করা সহজ হবে না জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হেপাটাইটিস নির্মূলে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ না করাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন তারা। শিশুদের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি-ইপিআই সেবার মাধ্যমে হেপাটাইটিসের টিকা প্রদান করা হলেও দেশের বিশাল অংশ টিকার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে এই রোগ নিয়ে সচেতনতা না থাকাকেও কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই সময়ের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে হেপাটাইটিস নির্মূল করা না গেলেও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে হেপাটাইটিসের চিকিৎসায় যতটুকু গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ সে পরিমাণ গুরুত্ব এখনো দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। হেপাটাইটিস থেকে পরিত্রাণ পেতে শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কদেরও বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি বলেন, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সবসময় টিকা কার্যকর নাও হতে পারে। সেজন্য এই টিকা কার্যক্রমকে মনিটরিং করার পরামর্শও দেন তিনি।
ইউডি/এজেএস

