এশিয়া কাপ-বিশ্বকাপ: কার নেতৃত্বে মিশনে নামবে টিম টাইগার্স

এশিয়া কাপ-বিশ্বকাপ: কার নেতৃত্বে মিশনে নামবে টিম টাইগার্স

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট ২০২৩ । আপডেট ১৩:৪৫

দুয়ারে কড়া নাড়ছে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো আসর। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে এই দুই মিশনে নেতৃত্ব দেবেন তা নিয়ে এখনও কোনো চ‚ড়ান্ত নাম প্রকাশ হয়নি। অথচ, এমন আসরের পরিকল্পনা থাকে দীর্ঘমেয়াদে, যদিও টিম টাইগার্সের পক্ষে সেটা সম্ভব হয়নি তামিম ইকবালের নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ায়। এখন আলোচনা কার নেতৃত্বে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মিশনে নামবে টিম টাইগার্স? এ নিয়ে আসাদ এফ রহমান’র প্রতিবেদন

সাময়িক না লম্বা সময়: নেতৃত্বের দায়িত্ব প্রদানে কোন পথে বিসিবি?

টাইগারদের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল অধিনায়কত্ব ছাড়ার সপ্তাহ পার হতে চললেও এখনও নতুন অধিনায়ক কে হচ্ছেন তা নিয়ে কোনো সুরহা করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। বিভিন্ন সূত্র বলছে-বিসিবি চাইছে, লম্বা সময়ের জন্য ওয়ানডে অধিনায়কত্ব কারো হাতে তুলে দিতে। অন্তত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত নেতৃত্বে দিতে চাইছে বিসিবি। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, অধিনায়ক ঠিক করতে হয় বোর্ড সভা করে। গত মঙ্গলবার জরুরি সভা ডেকে সেই বাধ্যবাধকতাই পালন করা হয়েছে। বোর্ড পরিচালকরা সভাপতিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার পর এখন বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপনের জন্যও বাকি কাজটা সহজ হয়ে গেল। অধিনায়ক ঘোষণা না হওয়ায় ঝুলে আছে আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ সামনে রেখে ২০-২২ সদস্যের দল ঘোষণাও। টাইগারদের প্রধান কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহে গতকাল বুধবার ঢাকায় এসেছেন। জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার দল নিয়ে তিনি আলোচনায় বসবেন নির্বাচকদের সঙ্গে। বিসিবি’র ক্রিকেট পরিচালনাপ্রধান জালাল ইউনুস অবশ্য বলেছেন, দুই-তিন দিনের মধ্যেই অধিনায়কের নাম জানিয়ে দেয়া হবে। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হবে এশিয়া কাপের ১৫ সদস্যের দলও। এসিসির বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী ১২ আগস্টের মধ্যেই তা করতে হবে।

পাপন-সাকিবের আলোচনার দিকে নজর

বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, বোর্ড পরিচালকেরা সবাই মিলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে দায়িত্ব দিয়েছেন সম্ভাব্য অধিনায়কদের সঙ্গে কথা বলে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আশা করি, আমরা দুই-তিন দিনের মধ্যে, ১২ আগস্ট আমাদের ডেডলাইন আছে (এশিয়া কাপের দল ঘোষণার), তার আগেই অধিনায়ক ঠিক করে করে আপনাদের জানিয়ে দেব। বোর্ড সভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে সভায় পরিচালকেরা দিয়েছেন তাদের মতামতও। সবার মতামতের যোগফল হিসাব করলে অবশ্য সম্ভাব্য অধিনায়ক একজনই, তিনি হলেন টাইগারদের বর্তমান টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের কাপ্তান সাকিব আল হাসান। সব পরিচালকই সাকিবকে ওয়ানডে অধিনায়ক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। সাকিব তাতে রাজি হলে তিনি বাংলাদেশ দলের তিন সংস্করণেরই অধিনায়ক হয়ে যাবেন। তাতেও আপত্তি নেই কোনো পরিচালকের। সাকিব যদি টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক থেকেই ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব করার তৃতীয় দায়িত্বটি নেন, তা বরং সাদরেই গ্রহণ করবে বিসিবি। কাজেই বল এখন সাকিবের কোর্টে।

নাজমুল হাসান পাপন

সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে আলোচনায় লিটন-মিরাজ

সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের পাশাপাশি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাসের নামও আছে আলোচনায়। অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে কারা আছেন সংক্ষিপ্ত তালিকায়? এমন প্রশ্নের জবাবে জালাল ইউনুসের জবাব, আপাতত সাকিব ও লিটনের সাথে মিরাজের নামও আমরা প্রস্তাব করেছি। বোর্ড সভাপতি তাদের সাথে কথা বলেই চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তাদের সাথে কথা বলা শুরু হবে। এরপরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ভোট সাকিবের পক্ষে বেশি হলেও ধাঁধা কিছুটা জটিল হয়েছে লিটন-মিরাজের মতো নাম সামনে চলে আসায়। আর নানা বিষয়ে সাকিব-বিসিবির ঐকমত্যে পৌঁছানো ব্যাপার আছে। তবে লিটনকে এই মুহূর্তে কিছুটা পিছিয়ে রাখার পেছনে চাপ নেওয়ার ব্যাপার সামনে এনেছেন পাপন। তার যুক্তি, যদি লিটনের কথা চিন্তা করেন, তাহলে এটাও খুব সহজ। একমাত্র ব্যাপার হচ্ছে, দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা এক বিষয় আর বিশ্বকাপ অন্য বিষয়। এটা আবার ওর ব্যাটিংয়ে না প্রভাব ফেলে বিশ্বকাপের মতো জায়গায়। এত বড় দায়িত্ব। আমরা সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্তটা নিতে চাই। সাকিব যদি কোনো কারণে রাজি না হন, সে ক্ষেত্রে লিটন দাস শেষ ভরসা। তামিমের অবর্তমানে ইন্ডিয়ার বিপক্ষে সিরিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্রিকেটার আতহার আলী খানের ভোট লিটনের পক্ষে, যেহেতু লিটন সহ-অধিনায়ক ছিল, অধিনায়কত্বও করেছে। অধিনায়ক হিসেবে তার যোগ্যতা ভালোই। আমার মনে হয়, ও খুব ভালো চয়েস। তবে সাকিবকে নিয়েও চিন্তা করার সুযোগ আছে। শুধু এশিয়া কাপের জন্য হলে বিসিবি বেছে নিতে পারত লিটনকে। বিসিবির সভাপতি পাপনও সেটি বলছিলেন, ও (তামিম) যদি বলত যে সে এশিয়া কাপ খেলবে না, সে ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই একজন তো আছেই, লিটন দাস হতো। কিন্তু এটা তো হচ্ছে না।’ওয়ানডেতে লিটন দাস এখন পর্যন্ত ৫টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন। যেখানে ৩ জয় ও ২ পরাজয়ে সাফল্যের হার ৬০%।
বিসিবি সভাপতি পাপনের ভাবনায়, সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্তটা নিতে চান। তাড়াহুড়ো করে নয়। তিনি বলেন, বার সঙ্গে কথা বলেই নেব। যেটা ভালো মনে হয় সেটাই করার চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে, তালিকায় আছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। জাতীয় দলে পরীক্ষিত পারফর্মারদের একজন এই স্পিন অলরাউন্ডার। আট নাম্বারে দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছেন। এর আগে যুব বিশ্বকাপেও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তার। দলে তরুণদের মাঝে অধিনায়ক হিসেবে তার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই ভাবনা অনেকের।

ওয়ানডে ফরম্যাটে মিস্টার অলরাউন্ডারের নেতৃত্ব কেমন?

ওয়ানডে ফরম্যাটে সাকিব আল হাসান ৫০টি ম্যাচের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যেখানে ২৩ জয়ের বিপরীতে পরাজয় ছিলো ২৬ ম্যাচে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিলো। এই হিসেবের বিবেচনায় তার সাফল্যের হার ৪৬.৯৩ শতাংশ। আর অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে তিনি এখন পর্যন্ত সবকটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। ২০১৯ সালের ৬০০’র ওপরে রান ও ১০ উইকেট নিয়ে বিশ্বক্রিকেটে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। তিনি ২০১১ সালে ঘরের মাটিতে অণুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে দেখার বিষয় তিনি কি আবারও ওয়ানতে নেতৃত্ব নেবেন কিনা। তাতে তার সঙ্গে যুক্ত হবে আরও দুটি ফরম্যাট। নেতৃত্ব নেওয়ার ব্যাপারে সাকিব পাল্টা কোনো শর্ত দিলে তা বরং একটু কঠিনই হয়ে উঠতে পারে। কিংবা তিন সংস্করণের দায়িত্ব নিয়েও সাকিব যদি মাঝেমধ্যে কোনো সংস্করণ থেকে বিশ্রাম নিতে চান! বিশেষ করে অধিনায়ক হয়েও টেস্ট ক্রিকেটটা কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত খেলেন না তিনি। বিশ্বকাপের পরপরই যেহেতু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, বিসিবি আশ্বস্ত হতে চায় যে সাকিবকে সেখানেও অধিনায়ক হিসেবে পাওয়া যাবে। নয়তো লাল বল-সাদা বলে আলাদা অধিনায়ক করার দিকে ঝুঁকতে পারে বিসিবি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ব্যস্ততার কারণেও অনেক সময় ছুটি নিতে হয় সাকিবকে। সব মিলিয়েই ক্যারিয়ার নিয়ে সাকিবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাটা তার সঙ্গে কথা বলে ভালোভাবে বুঝে নিতে চায় বোর্ড। বিসিবির দীর্ঘ মেয়াদে অধিনায়ক করার চিন্তা থাকলেও সাকিব যদি অন্তত বিশ্বকাপ পর্যন্তও ওয়ানডের নেতৃত্ব নেন, সেটাও মেনে নেওয়া হবে। কাজেই এটা বলেই দেওয়া যায় যে সাকিবকে ওয়ানডে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত বোর্ডের তরফ থেকে নেওয়া হয়ে গেছে। সাকিব রাজি না হলেই কেবল ‘প্ল্যান বি’ হিসেবে লিটনকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১০ আগস্ট ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

বাঁহাতি অলরাউন্ডারের মত-ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেবে বোর্ড

অধিনায়ক নির্বাচনে সাকিবকে কোনো শর্ত দেবে না বোর্ড। বরং বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারের মতামত ও ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জালাল ইউনুস বলেন, সাকিবের মত জানা হবে সে কীভাবে কী করতে চায়।
বিসিবি সভাপতি সাকিবের সঙ্গে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করবেন তিনি তিন সংস্করণে অধিনায়ক থাকতে চান কিনা। ৩৬ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার রাজি থাকলে বোর্ড আপত্তি করবে না। তবে সাকিবের দিক থেকে কোনো পরামর্শ থাকলে, সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বিসিবি।
যদিও বোর্ড কর্তাদের অনেকের ধারণা, সাকিবের সঙ্গে সভাপতি পাপনের কথা হয়ে গেছে। তিনি রাজি হওয়ার পরই জরুরি সভা ডেকে পরিচালকদের সমর্থন নেওয়া। একজন কর্মকর্তা যেমন বলেন, সাকিবের মত না থাকলে জরুরি মিটিং ডাকা হতো না। বোর্ড সভাপতি এত কাঁচা লোক নন যে, নিশ্চিত না হয়ে বা সাকিবের মত না নিয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্ত জানতে চাইবেন। যোগাযোগ না করে সিদ্ধান্ত নিলে সাকিব নাও তো করে দিতে পারে। তখন কী হবে? যাই হোক না কেন, বিসিবি সভাপতি সাকিবকে আগে থেকেই অধিনায়ক ঠিক করে রেখেছেন। জরুরি সভায় সভাপতির কথা থেকেই পরিচালকরা তা বুঝে নিয়েছেন। পরিচালকদের সবাই সাকিবকে সমর্থন করায় পাপন হেসে বলেছেন, তাই তো বলি সাকিব ছাড়া আর কে অধিনায়ক হবে।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading