কোন দিকে গড়াতে পারে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত?

কোন দিকে গড়াতে পারে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত?

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, আপডেট ১৫:০০

নিজেদের ভূখণ্ডে হামলার জবাবে ইরানের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার পন্থা খুঁজছে ইসরায়েল, যা ঘিরে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এ নিয়ে সাদিত কবির’র প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে শঙ্কা চরমে: ইসরায়েলের ভূখন্ড লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জবাবে ইসরায়েলও প্রতিশোধ নেওয়ার উপায় খুঁজছে। দেশটি বলছে, উপযুক্ত সময়ে ইরানের ওপর প্রতিশোধ নেবে তারা। সেই জবাব ইসরায়েল কীভাবে দেবে, সেটার ওপরই নির্ভর করছে চলমান সংঘাত কোন দিকে গড়াবে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরণের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হওয়া ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান বাড়ছে।

সিরিয়ার রাজধানীতে তেহরানের কনস্যুলেটে সাম্প্রতিক হামলার জবাবে গত শনিবার গভীর রাতে তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইরান এই হামলা চালায়। যদিও বেশিরভাগ ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি ভূখন্ডে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারপরও উত্তেজনার আরও বৃদ্ধি হতে পারে বলে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। মূলত গত ১ এপ্রিল সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসাবে ইসরায়েলে রাতারাতি ৩০০টিরও বেশি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে তেহরান। এর বেশিরভাগই ইরানের অভ্যন্তর থেকে নিক্ষেপ করা হয়। তবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্রই ভ‚পাতিত করেছে ইসরায়েল, আমেরিকা এবং তাদের মিত্রবাহিনী। ইসরায়েলে হামলার কারণ জাতিসংঘকে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে এ হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। ইরানের জাতিসংঘের দূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, তেহরান ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ তার ‘আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। বিবিসির নিরাপত্তা সংবাদদাতা ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনার জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ও বিশ্বের অন্যত্রও বহু দেশ এই পরিস্থিতিতে সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

এর মধ্যে এমন অনেক দেশও আছে, যারা ইরানের সরকারকে ঘোরতর অপছন্দ করে। কিন্তু এখন তারাও চাইছে ইসরায়েল যেন নতুন করে এই হামলার জবাব দিতে না যায়। অন্যদিকে ইরানের মনোভাবটা অনেকটা এই ধরনের: ‘অ্যাকাউন্ট সেটলড’-মানে শোধবোধ হয়ে গেছে। ব্যাস, বিষয়টার এখানেই ইতি টানলেই ভালো। ইসরায়েলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে এই মুহুর্তে যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তাকে অনেকেই সেদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘কট্টরপন্থী’ বা হার্ডলাইন সরকার বলে বর্ণনা করে থাকেন। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পরিণতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা যেহেতু কোনও একটি পক্ষের ওপর নির্ভর করছে না।তাই আপাতত সারা দুনিয়াকেই পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখতে হবে। এদিকে, আমেরিকা সরাসরিই জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে’ অংশ নেবে না। এ অবস্থায় ইরানের হামলার বিরুদ্বে ইসরায়েল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে চলেছে তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে ইসরায়েলি মন্ত্রী বেনি গান্তজ বলেছেন, তার দেশ সঠিক সময়ে ইরানের কাছ থেকে ‘সঠিক মূল্য উসুল’ করবে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

পাল্টা হামলা নিয়ে ইসরায়েলের ভাবনা: মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরণের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হওয়া ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান বাড়ছে। এদিকে, আমেরিকা সরাসরিই জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে’ অংশ নেবে না। এ অবস্থায় ইরানের হামলার বিরুদ্বে ইসরায়েল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে চলেছে তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে ইসরায়েলি মন্ত্রী বেনি গান্তজ বলেছেন, তার দেশ সঠিক সময়ে ইরানের কাছ থেকে ‘সঠিক মূল্য উসুল’ করবে। ইরানি হামলার জবাব কী হতে পারে তা নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার পরিকল্পিত বৈঠকের আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, আমরা বাধা দিয়েছি, প্রতিহত করেছি, একসঙ্গে আমরা জিতব। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওভ গ্যালান্ট বলেছেন, হামলা ব্যর্থ করা হলেও সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি আর ‘আমাদের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে’। ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ টেলিভিশন অনামা এক ইসরায়েলি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইরানি হামলায় ‘উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া’ দেখানো হবে। ইসরায়েল সফলভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা করতে পেয়েছে এবং এটাই ইরানের বিরুদ্ধে তাদের জয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির একজন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তার দেশের এখন উচিত হবে ‘খুব সাবধানে’ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

কেন এই হামলা,জানাল ইরান: ইসরায়েলে হামলার কারণ জাতিসংঘকে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে এ হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। ইরানের জাতিসংঘের দূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, তেহরান ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ তার ‘আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। এ মাসের শুরুতে দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ইসরায়েলের হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাই তেহরানের কাছে পাল্ট জবাব দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না, তার দেশ যুদ্ধ চায় না, তবে যে কোনো হুমকি বা আগ্রাসনের জবাব দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইসরায়েলে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর প্রতিশোধমূলক কোনো পাল্টা হামলা হলে ‘আরও বড় জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সিরিয়ায় কন্স্যুলেট অফিসে হামলার জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে ৭২ ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করেছিল ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাব্দুল্লাহিয়ান এ দাবি করেছেন। যদিও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ দাবি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেনি তেহরান।

আন্তোনিও গুতেরেস

ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, বলছে জাতিসংঘ: মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দারা সর্বাত্মক এবং ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে পড়ে গেছে। গোটা অঞ্চল এখন খাদের কিনারে চলে গেছে। বাসিন্দারা একটি পূর্ণমাত্রার ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মুখোমুখি। তারা যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছেন। এখনই সময় তাদের খাদের কিনার থেকে ফিরিয়ে আনার। আর এ দায়িত্ব যৌথভাবে গোটা বিশ্বের। এমন মন্তব্য করেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিশ্বসংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি সভার শুরুতে দেয়া ভাষণে গুতেরেস এসব কথা বলেন ইসরায়েলের অনুরোধে ইরানের হামলা নিয়ে এ সভা ডাকা হয়। এতে স্ব স্ব দেশের অবস্থানের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েল ও ইরানের রাষ্ট্রদূতেরা। সংঘাতে কোন পক্ষ নেয়া জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, তিনি নিশ্চিতভাবে এই সংঘাতে কোন পক্ষে যাননি। মধ্যপ্রাচ্যের বড় বড় সামরিক পক্ষগুলো ফের ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে যেতে পারে, এমনটি উল্লেখ করে তার বলেন, যে কোনো সংঘাতপূর্ণ পদক্ষেপ এড়িয়ে যাওয়া জরুরি। ইতোমধ্যে এখানকার বেসামরিক নাগরিকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের (গাজাবাসী) চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। তাই এখনই সময়, সবাইকে যুদ্ধের কিনার থেকে ফিরে আনার। জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, (ইরান-ইসরায়েল-গাজা) সংঘাত যাতে আবার উসকে না যায়, তা প্রতিরোধে সবার দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে সক্রিয়ভাবে এই দায়িত্বপালনের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

সবার যৌথ অংশগ্রহণে এখনই গাজায় যুদ্ধ বিরতি প্রয়োজন উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, সেখানে মানবিক অবস্থা বিপর্যস্ত। এ জন্য সব জিম্মিদের নিঃশর্ত মুক্তি ও বাধাহীনভাবে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে দেওয়া দরকার। গুতেরেস তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সংঘাত বন্ধ ও লোহিত সাগরে নৌ-যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা নিয়েও কথা বলেন। বিশ্বে শান্তি স্থাপনে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ দায়িত্ব থাকার কথা উল্লেখ করে গুতেরেস আরও বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-নিরাপত্তার অবস্থা প্রতি ঘণ্টায় অবনতি হচ্ছে। এ অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) বা বিশ্বের কেউ আর যুদ্ধ চায় না। জাতিসংঘের মহাসচিব তার বক্তব্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আঞ্চলিক অখন্ডতার এবং সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ এড়িয়ে জাতিসংঘ সনদের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন।

জো বাইডেন

কৌশলি অবস্থান আমেরিকার: ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তবে আমেরিকা তাতে অংশ নেবে না বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, ইসরায়েলমুখি ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে আমেরিকা, ব্রিটেন ও জর্ডান। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ইরানের হামলার পর রাতেই এক ফোন কলে বাইডেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে জানান তিনি প্রতিশোধমূলক হামলায় অংশ নেবেন না। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তাও রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর পাশপাশি মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি-র ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) কৌশলগত যোগাযোগ সমন্বয়ক জন কারবি বলেছেন, আমেরিকা ইসরায়েলের আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা বজায় রাখবে, কিন্তু যুদ্ধ চায় না। দুইজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি মন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ আসন্ন নয় আর তারা এককভাবে এ ধরনের কিছু করতে যাচ্ছে না। আঞ্চলিক একট জোট গঠনের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে উপযুক্ত সময়ে জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

ইসরায়েলকে যে বার্তা দিলো ব্রিটেন: ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করতে ইসরায়েলের প্রতি আহŸান জানিয়েছে ব্রিটেন। এমনকি তেহরানের এই হামলাকে ইরানের ‘দ্বৈত পরাজয়’ বলেও আখ্যায়িত করেছে দেশটি। সোমবার (১৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে চালানো হামলায় ইরানের ‘দ্বৈত পরাজয়’ হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করা ইসরায়েলের উচিত নয় বলে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সোমবার মন্তব্য করেছেন। সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের সাথে কথা বলার সময় ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ইসরায়েলে চালানো ইরানের আক্রমণটি ‘প্রায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ হয়েছে এবং ইরান ‘বিশ্বের কাছে প্রকাশ করেছে যে, তারা এই অঞ্চলে ক্ষতিকারক প্রভাব রাখছে এবং তারা এটি করার জন্য প্রস্তুত। ক্যামেরন বলেছেন, সুতরাং আমাদের আশা হলো প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া হবে না এবং এর পরিবর্তে, বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ করা উচিত হামাসের দিকে। তারা এখনো সেইসব মানুষকে বন্দি করে রেখেছে। তাদের একটি চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে কিছু বন্দির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে এবং যুদ্ধে একটি বিরতি হবে। এখন এটাই ঘটা প্রয়োজন এবং এটিই আমি আশা করি, আমরা এটার ওপরই ফোকাস করতে পারব।

এছাড়াও ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি ব্রিটেনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ক্যামেরন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন’ করে ব্রিটেন। ক্যামেরন বলেন, সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের ভ‚মিকা হচ্ছে মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানকে সহায়তা করার জন্য বিমান সরবরাহ করা, যাতে আমেরিকানরা ইসরায়েলের আকাশে আরও বেশি কিছু করতে পারে। তার ভাষায়, ‘কিন্তু একই সময়ে, আমরা বলেছিলাম- যদি ওই অঞ্চল থেকে ইসরায়েলে কোনও ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আসে, তাহলে আমরা সেগুলো গুলি করে ভ‚পাতিত করব’। এবং আমাদের অত্যন্ত দক্ষ পাইলটরা সেখানে এটিই করেছেন।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৬ এপ্রিল ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা

সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে কী ঘটবে: এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়টি ছিল কেবল ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া বনাম ইসরায়েল ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ‘টিট-ফর ট্যাট’ হামলা। তবে ইসরায়েলে ইরানের নজিরবিহীন হামলার পর এবারে তা রূপ নিলো বড় আকারের যুদ্ধে। বলা হচ্ছে, ‘অপারেশনট্রুমপ্রমিজ’ নামের এই অভিযানের মাধ্যমে ইরান কী করতে পারে, তার সামান্য নমুনা দেখালো মাত্র। শুধু তাই নয়, ইসরায়েলের পাল্টা হামলা মোকাবিলারও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে তারা। বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের যুদ্ধ হলে তার ফল ভোগ করতে হবে গোটা বিশ্বকেই। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বাড়াসহ হুমকির মুখে পড়তে পারে বিশ্ববাণিজ্য। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে কর্মসংস্থানের অভাবে কমে যেতে পারে প্রবাসী আয়। গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত বাড়ছিল। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো হামাসের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে লেবানন, ইরাক ও সিরিয়া থেকে হামলা করে আসছিল।

মিত্রগোষ্ঠীদের সমর্থন দিয়ে গেলেও ইরান এত দিন ইসরায়েল কিংবা আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলার পথ নিয়েছিল। কিন্তু দামেস্কে কনস্যুলেট ভবনে হামলার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরোধ চলে আসলেও তেহরান কখনোই তেল আবিবের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে নামেনি। দামেস্কের ঘটনার দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরান সেটা করল। কিন্তু এরপর কী হতে চলেছে, সেটা নির্ভর করছে ইসরায়েল এই হামলার জবাবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, তার ওপর। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকলেও, পরিস্থিতি ভিন্ন ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি গত মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের উপস্থিতিকে তারা হুমকি বলে মনে করেন। কেননা, এটা হরমুজ প্রণালির খুব কাছে। প্রতিদিন বিশ্বে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল বিক্রি হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরানের দিক থেকে ইসরায়েলের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে, এ খবরেই গত অক্টোবর মাসের পর তেলের দাম সর্বোচ্চ ছুঁয়েছিল। আর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনে বড় বাধার সৃষ্টি হতে পারে। বøæমবার্গের প্রতিবেদন জানাচ্ছে যে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর দাম এ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২২ লাখ ব্যারেল তেল কম উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ যদি বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading