অর্থপাচারকারীরা টাকার বা‌লিশে ঘুমাতে পারবে না: গভর্নর

অর্থপাচারকারীরা টাকার বা‌লিশে ঘুমাতে পারবে না: গভর্নর

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৫

অর্থপাচারকারীরা শা‌ন্তি‌তে থাক‌তে পার‌বে না হুঁশিয়া‌রি দি‌য়ে নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ব‌লে‌ছেন, তাদের‌ এখন আর টাকার বা‌লিশে ঘুমা‌তে দেওয়া হবে না। রিজার্ভের সংকট ওভারনাইট যাবে না। তবে অযৌক্তিক পর্যায়ে বাজারে ডলার সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হবে না। রিজার্ভ বাড়াতে ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের (উন্নয়ন অংশীদার) সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) দা‌য়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন বাংলাদেশ ব্যাংকে বোর্ড মি‌টিংয়ে সংবাদ সম্মেলনে অর্থপাচারকারীদের এ হুঁশিয়া‌রি দেন গভর্নর।

নতুন গভর্নর ব‌লেন, শুধু সরকার, বাংলা‌দেশ ব্যাংক একা নয়, আন্তর্জাতিক মহ‌লের সহায়তা নি‌য়ে অর্থপাচারকারী‌দের ধরতে হ‌বে। আমরা এমন একটা সিচুয়েশন তৈরি করব, যারা টাকা নিয়ে গেছে তারা যেন কষ্টে থাকে। তারা টাকার বিছানায় বালিশ দিয়ে যেন না ঘুমাতে পারে এ ব্যবস্থা কর‌ব। একটু দৌড়াদৌড়ির মধ্যে থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন এখন কিছুটা সহায়ক আছে, এটাকে কাজে লাগাতে হবে। টাকা আসুক আর না আসুক তাদেরকে কষ্টে রাখব।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। সুতরাং এই দায়িত্ব আমরা চাই বা না চাই আমাদের ঘাড়ে আসবেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সফলতা বা ব্যর্থতা আন্তর্জাতিকভাবে দুটো বিষয়ের ওপর নির্ধারণ করা হয়। প্রথমটি হচ্ছে মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ এবং দ্বিতীয়টি রিজার্ভের অবস্থান। এগুলো গুরুত্ব দিতে হবে। যেহেতু এখন মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী অপরদিকে রিজার্ভ নিম্নমুখী অবস্থায় আছে, তাই এই দুটোকে সমন্বয় করে আমাদের নীতি নির্ধারণ করতে হবে। যেন দ্রুত সম‌য়ের মধ্যে এই সূচক দু‌টি‌কে মাঝামা‌ঝি অবস্থায় আন‌তে পারি। ত‌বে রিজার্ভ বাড়া‌নোর ক্ষেত্রে আমদা‌নির বিষয়ও নজর দি‌তে হ‌বে। আমদা‌নি-রপ্তা‌নি সমন্বয় ক‌রে ব্যবস্থা নি‌তে হ‌বে।

আর্থিক খাতের দুর্বলতার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক দায়ী উল্লেখ ক‌রে নতুন গভর্নর ব‌লেন, বর্তমানে আর্থিক খাত খুব বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত অন্যতম। বে‌শিরভাগ ব্যাংক ভা‌লো থাকলেও কয়েকটি ব্যাংক খারাপ অবস্থায় আছে, তা‌দের‌ বিষয় বি‌শেষ ব্যবস্থা ‌নি‌তে হ‌বে। এটি কর‌তে গে‌লে সরকার‌রের সহায়তা লাগ‌বে। কারণ দুর্বল ব্যাংকগু‌লোর মূলধন প্রয়োজন হ‌বে। এই অর্থ সরকা‌র দে‌বে না‌কি বেসরকা‌রি খাত থে‌কে আসবে এটা সরকা‌রের সিদ্ধা‌ন্তের বিষয় রয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর জানান, ব্যাংকের খেলাপি ঋণের তথ্য একত্রিত করতে হবে। কারণ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে খেলাপি ঋণ কমিয়ে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে অনেক টাকা আটকে আছে। সব মিলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বাড়বে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading