ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি, কমেনি দুর্ভোগ
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৪, আপডেট ০৭:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় কমতে শুরু করেছে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি কমতে শুরু করেছে
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে আখাউড়ার গাজীবাজার, মোগড়া, মনিয়ন্দসহ বিভিন্ন গ্রামের ডুবে থাকা বাড়িগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে কমেনি মানুষের দুর্ভোগ।
জানা গেছে, হাওড়া নদীর একটি বাঁধের তিনটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় এখন আখাউড়ার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পানি ঢুকছে। এখন পর্যন্ত আখাউড়া ও কসবায় ৬০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানায়, পানি কমতে শুরু করলেও ঘর থেকে এখনও বের হতে পারছেন না তারা। চুলা না থাকায় শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। প্রবল পানির কারণে আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন বলেন, আগরতলার বৃষ্টির সঙ্গে আখাউড়ার বন্যার পরিস্থিতি নির্ভর করে। গতকাল থেকে আজ সকাল নয়টা পর্যন্ত আগরতলা ও আখাউড়ায় কোনো বৃষ্টি হয়নি। তবে আখাউড়া ও আগরতলার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। বৃষ্টি হলে পানি বাড়বে ও বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওড়া নদীর বাঁধের দুটি অংশসহ সড়কের ৮টি স্থান ভেঙে গেছে। এতে উজানের পানিতে আখাউড়া ও কসবা উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৩৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী আছে পাঁচ হাজার মানুষ। লোকজন প্লাবিত বসতঘর ছেড়ে উজান, স্বজনদের বাড়িঘরসহ উপজেলার ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আনুমানিক ৩০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আখাউড়ার ১৫টি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বলেন, আখাউড়ার গঙ্গাসাগর পয়েন্টে হাওড়া নদীর বিপৎসীমা ৬ দশমিক শূন্য ৫ মিটার। গতকাল রাতে এখানে পানি ৫ দশমিক ৭৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। শুক্রবার সকাল নয়টায় পানি ৯ সেন্টিমিটার কমে ৫ দশমিক ৭০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে; যা বিপৎসীমা থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে তিতাসসহ মেঘনা নদীতে পানি বাড়ছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় প্রশাসন থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া পানি কমে গেলে ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত করে যান চলাচলের উপযুক্ত করা হবে।
ইউডি/কেএস

