দেশে দারিদ্র্য পরিস্থিতি কী অবস্থায় আছে
সাদিত কবির। শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৬
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুর্শিদ বলেন, ইউএনডিপির এই সমীক্ষায় যেভাবে বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিমাপ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশের বিবিএস বা অন্যান্য সংস্থার সমীক্ষার তুলনা করা ঠিক হবে না। এই সমীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি বৈশ্বিক তুলনায় কী অবস্থায় আছে, তার একটি চিত্র পাওয়া গেল। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ডলার-সংকট এবং নানা ধরনের আর্থিক সমস্যার কারণে দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তা নানা সূচকের মাধ্যমে এই সমীক্ষায় বোঝা গেছে। এখান থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই সংঘাত বন্ধ ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয় বলে মনে করেন অক্সফোর্ড পোভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের পরিচালক সাবরিনা আলকায়ার। তিনি বলেন, সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোয় দারিদ্র্য বিমোচনের গতি তুলনামূলক কম। তাই বলা যায়, এসব দেশের দরিদ্র মানুষকে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগ ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। গত কয়েক বছরে সংঘাত বেড়ে কয়েক গুণ হয়েছে। এতে প্রাণহানি নতুন করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাতের জেরে রেকর্ড পরিমাণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। এতে বড় পরিসরে মানুষের জীবন ও জীবিকা বাধার মুখে পড়ছে।

ক্রমবধর্মান অর্থনৈতিক বৈষম্য উদ্বেগজনক: ক্রমবধর্মান অর্থনৈতিক বৈষম্য উদ্বেগজনক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক গোষ্ঠী সুযোগ এবং সম্পদে অভিগম্যতা পেতে জীবন সংগ্রামে নিয়োজিত। যাদের জীবন ও জীবিকা প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, বৈশ্বিক সংঘাত-যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশে দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত অগ্রগতি ঝুঁকিতে আছে। যার প্রভাবে গ্রাম থেকে শহরের পড়ছে। দেশে দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। যা ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে বিরাট বাধা। জীবিকা হারানো, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ-সংঘাত, নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিরাট ব্যবধান বাদ পড়া জনগোষ্ঠীকে আরও প্রান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘দারিদ্র্য ও অসমতা নিরসন এবং সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা জোরদারকরণ’ শীর্ষক জাতীয় জনসম্মিলনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন এগেইনস্ট পোভার্টির (জিক্যাপ) সহায়তায় এসডিজি অ্যাকশন এলায়েন্স ও নোয়াখালী রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এনআরডিএস) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এনআরডিএস’র নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের ধীর গতি আশাহত করছে প্রান্তিক মানুষকে। বিগত বছরগুলোতে করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা বৈশ্বিক সংকট এসডিজির অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এসডিজি অর্জনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার কঠিন পথযাত্রায় নতুন কৌশল ও সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টা জোরদার করা দরকার। অর্থনৈতিক সংকট ও জলবায়ু সংকটে বাড়ছে বৈষম্য, বাড়ছে দারিদ্র্য, বাড়ছে বাস্তুচ্যুত পরিবেশ শরণার্থীর বিপদাপন্নতা। বিপদাপন্ন মানুষের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না, যদি সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর না হয়।
ইউডি/এজেএস

