মনের প্রশান্তি মিলাতে ফের দেখা দিল কাঞ্চনজঙ্ঘা

মনের প্রশান্তি মিলাতে ফের দেখা দিল কাঞ্চনজঙ্ঘা

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১০:০০

হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম ও পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আগ্রহের কোনো কমতি নেই। কারণ কাঞ্চনজঙ্ঘার একই অঙ্গে অনেক রূপ। মেঘের কোলে রোদ-কুয়াশার সঙ্গে খেলতে খেলতে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম এই পর্বতশৃঙ্গ প্রথমে কালচে, এরপর ক্রমান্বয়ে টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ এবং সাদা রং ধারণ করে। ভোরের প্রথম কিরণ যখন কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া স্পর্শ করে তখন শ্বেতশুভ্র এই পর্বতটি হয়ে ওঠে উত্তপ্ত লাভার মতো লাল।

প্রতিবছর শীত মৌসুমে রূপ-লাবণ্যে বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পর্যটকরা ছুটেন ভারতের সিকিমে নয়তো নেপালের তাপ্লেজুংয়ে। সীমান্ত পার না হতে চাইলে রয়েছে বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। যদিও ভারত কিংবা নেপালে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের গণ্ডি না পেরিয়ে অর্থাৎ তেঁতুলিয়াপ্রান্ত থেকেই পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া দেখা যায় অনিন্দ্য সুন্দরে আচ্ছাদিত কাঞ্চনজঙ্ঘা।

সামান্য দূরত্বের মধ্যে থাকা এত সুন্দর পর্বতশৃঙ্গ দেখতে উন্মুখ হয়ে থাকেন পর্যটকেরা। যেন মনের প্রশান্তি মিলে তখন যখন কি না চোখে চোখ রাখে কাঞ্চনজঙ্ঘা। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) ভোরে ঠিক তেমনি দৃশ্যের অবতারণা করেন হিমালয়কন্যার দেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা শ্বেতশুভ্র এ পর্বতটি।

পর্যটকদের কারও কারও কাছে এই লোভনীয় দৃশ্য যেন অভাবনীয়। আবার কারও জন্য আক্ষেপ আর অপেক্ষার অবসানও বটে। কারণ কাঞ্চনজঙ্ঘা সব সময় দেখা দেয় না। তাইতো ভোরের সূর্য ওঠার আগেই ঘুম ভাঙে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অপেক্ষায় থাকা পর্যটকদের। তেঁতুলিয়ার মানুষেরা প্রায়ই ঘুমভাঙা চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার কারণে তাদের কাছে এর তেমন আকর্ষণ নেই। কিন্তু পর্যটকদের কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন বহুল কাঙ্ক্ষিত এক সৌন্দর্যের নাম। শুক্রবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উঁকি দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘার সেই বিরল সৌন্দর্য।

স্থানীয়রা জানান, আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। ভোরে উষায় রক্তিম রোদ কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর যেন ঠিকরে পড়ে। সূর্যের কিরণের তেজ বাড়তে থাকলে দেখা মেলে হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিন্ন ভিন্ন মায়াবী রূপ। রোদের তেজ বাড়তে থাকলে মিলিয়ে যেতে থাকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। শেষ বিকেলেও আরেকবার দেখা দিয়ে মেঘের আড়ালে লুকিয়ে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্তে প্রবাহিত হয়েছে মহানন্দা নদী। এ নদীর ওপারেই বিস্তৃত ভারত-নেপাল ও ভুটান। এপারে তেঁতুলিয়া শহরের একমাত্র পর্যটন কেন্দ্র ডাকবাংলো পিকনিক কর্নার। এখান থেকেই স্পষ্টভাবে অবলোকন করা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভুটানের দক্ষিণ-পূর্বে কাঞ্চনজঙ্ঘা অবস্থিত।

পাহাড়ের চূড়া ছাড়াও সন্ধ্যায় এখান থেকে ভারতের কালিম্পং শহরের যানবাহন চলাচল, বৈদ্যুতিক আলো, দার্জিলিংয়ের মহকুমা সদর দপ্তর ও রাতে প্রদর্শিত ভারতের সীমান্ত বাহিনীর ওয়াচ লাইট উপভোগ করা যায় ডাকবাংলোর তীর থেকে। আর বিস্তীর্ণ চা-বাগানের সবুজ গালিচার মধ্যে সোনার আলোয় উদ্ভাসিত হয় এর নৈসর্গিক রূপ। এই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দৃশ্যমান হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখতে ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। চলতি মাসের গত ৬ নভেম্বরের পর শুক্রবার আবারও দেখা দিল কাঙ্ক্ষিত সেই কাঞ্চনজঙ্ঘা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading