সেচ সংকটে কাউয়াদীঘি হাওরপারের কৃষক
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১১:০০
মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওর ঘিরে তৈরি হওয়া মনু নদ সেচ প্রকল্প হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে আশা-ভরসার উৎস হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেচ নালায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হলে সেচ সংকটে উদ্বেগ তৈরি করে কৃষকদের। প্রতিবছর বোরো মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহের অভাবে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় থাকেন তারা।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলছেন, ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেচনালা ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে বিভিন্ন স্থানে উঁচু হয়ে গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা খনন না করায় প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর বোরোর জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সেচ নালায় প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে তারা সেচ-সংকটে পড়েন।
প্রকল্পের আওতায় থাকা সব সেচনালা জরুরি ভিত্তিতে খনন করা না হলে চাষাবাদ করা যাবে না। আর এই জমিগুলো পতিত হিসেবেও পড়ে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ দিতে ১৯৮৩ সালে সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওর নিয়ে মনু নদ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পে সেচের আওতায় প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। সেচ-সুবিধা দিতে ১০৫ কিলোমিটার সেচনালা তৈরি করা হয়। তবে প্রতিবছরই বোরো মৌসুমে সেচের পানি নিয়ে হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এবারও সেচ প্রকল্পে সদর উপজেলার একাটুনা, বড়কাপন, রায়পুর, বানেশ্রী, পাড়াশিমইল, কান্দিগাঁও, জুমাপুর, জগৎপুর ও কাদিপুরের মাঠে সেচ-সংকট দেখা দেয়।
এদিকে জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, জেলায় এবার বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৬২ হাজার ১০০ হেক্টর জমি। উৎপাদিত ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫১০ টন। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনো সমস্যা হবে না।
বড়কাপন এলাকার কৃষক রমেশ সুত্রধর বলেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই সেচনালা খনন ও সংস্কারের অভাবে চাষে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় থাকা সব সেচনালা জরুরি ভিত্তিতে খনন করা না হলে চাষাবাদ করা যাবে না। আর এই জমিগুলো পতিত হিসেবেও পড়ে থাকবে।
হাওরপারের পাড়াশিমইল এলাকার কৃষক জামাল মিয়া বলেন, এখন যদি ধানের চারা রোপণ না করা হয়, তা হলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যায়। চারা রোপণ করার পর অনেক জায়গায় পানি পাওয়া যায় না। তাই খুব দ্রুত সেচ প্রকল্পের সেচ খাল সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
সেচ প্রকল্পের আওতায় থাকা নালা খনন ও সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিন করে এলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি জানিয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, বোরো মৌসুমে হাওরপাড়ের কৃষকদের পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। তাদের দূর থেকে পাইপ দিয়ে জমিতে পানি দিতে হয়। এতে কয়েক গুণ খরচ বেড়ে যায়। তাই শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই দ্রুত এ সেচ খাল সংস্কার করতে হবে। তা নাহলে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় উৎপাদিত ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনো সমস্যা হবে না। তবে পানি সমস্যার সমাধান হলে হাওরপাড়ের কৃষকেরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ধান চাষ করতে পারবেন। বোরো ধান চাষের সুবিধার জন্য নালা খনন করার জন্য আমরা পাউবোকে চিঠি দিয়েছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, পানি নিষ্কাশনের সেচ নালাগুলোর বেশকিছু স্থানে পলি জমে, পাড় ভেঙে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে উঁচু হয়ে গেছে। প্রতিবছর আমাদের যে পরিচালন বাজেট আসে, সেখান থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কাজ করা হয়।
ইউডি/কেএস

