বিএসইসি পরিস্থিতি : প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চান কর্মকর্তারা
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৯ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৫:৫০
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিএসইসির জন্য পুঁজিবাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ, যোগ্য চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ চান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে (পরিচালক ও আহবায়ক) মোঃ আবুল হোসেন এবং (সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত পরিচালক) মোহাম্মদ মিরাজ উস সুন্নাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুধবার (৫ মার্চ) কমিশনের নিকট তাদের ন্যায্য দাবীদাওয়া উত্থাপন করেছেন। দাবীদাওয়ার কোন সুরাহা না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ডেকে এনে লেলিয়ে দিয়ে লাঠিচার্জ ও হামলা চালিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহত করার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানোয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন তীব্র প্রতিবাদ ব্যক্ত করছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ কর্মস্থলে লাঠিচার্জ ও হামলার শিকার হওয়া বিএসইসি তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরর দাবী স্পষ্ট- আমরা কারো ক্রীড়নক না হয়ে, আইন কানুন মেনে দেশের মানুষের জন্য, বিনিয়োগকারীদের জন্য ও সর্বপরি পুঁজিবাজারের উন্নতির জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই। কিন্তু অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও সত্য যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্তে¡ও, বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়েছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, আর পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পেল একদল অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাই ইতোমধ্যে জানেই যে বর্তমান কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ অন্যান্য কমিশনারদের পুঁজিবাজার নিয়ে ভালো ধারণা নেই, অভিজ্ঞতা নেই, এমনকি পুঁজিবাজারের উন্নতি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের কোন সদিচ্ছা নেই। এভাবে কাজ করা যায় না। তাদের অদক্ষতায় একদিকে যেমন পুঁজিবাজারে দুর্দিন যাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের সীমাহীন দুর্ব্যবহার, স্বেচ্ছাচারী, স্বৈরাচারী ও আইন বহির্ভূত মনোভাব ও কাজে কমিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা হতাশ। এমতাবস্থায় পুঁজিবাজারের উন্নতি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণসহ কমিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরর সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বার্থে ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরর উপর হামলার প্রতিবাদে চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও অন্যান্য কমিশনারদেরর পদত্যাগ দাবী করছে।
এর আগে, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম গত বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে-নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানের বাধ্যতামূলক অবসরের নির্দেশ প্রত্যাহার, ‘বিতর্কিত’ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের শোকজ করা বন্ধ রাখা এবং ইতোমধ্যে জারি করা শোকজসমূহ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়া, ১২৭ জনের নিয়োগের ব্যাপারে বিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ এবং ৩ দিনের মধ্যে আপিল করে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করা, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে অশোভন, অপেশাদারমূলক দূর্ব্যাহার বন্ধ করা।
আন্দোলনকারীদের যত দাবি : গত বৃহস্পতিবার বিএসইসি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে আগের দিনের পাঁচ দাবি থেকে সরে এসে চার দাবি তুলে ধরা হয়। তাদের দাবিগুলো হলো- বর্তমান কমিশনকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে’ সেনা সদস্যদের ডাকার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাঠিচার্জ করার ঘটনায় কমিশনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিএসইসির জন্য পুঁজিবাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ, যোগ্য চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে। সংস্কারের অংশ হিসেবে কমিশনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
বিএসইসি কমিশনার মহসীন চৌধুরীকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৭ সালে যুগ্মসচিব পদে থাকাকালীন মহসীন চৌধুরী স্বৈরাচারী সরকারের তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলামের একান্ত সচিব ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কাজে সহযোগিতার পুরস্কার হিসাবে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তার তোষামাদির পুরস্কার স্বরূপ তাকে (আওয়ামী লীগ আমলে) সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ উস সুন্নাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি/এজেএস

