হিসাব কষে নীতি-কৌশল সাজানোর তাগিদ মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানিতে 

হিসাব কষে নীতি-কৌশল সাজানোর তাগিদ মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানিতে 

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১৮:২৫

মার্কিন নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের চেয়ে ভিয়েতনামের ঘাড়ে চাপ বেশি পড়ায় বাজার হারানো নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা নেই পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের। আবার ইন্ডিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও দেশটিতে ক্রয়াদেশ তাৎক্ষণিক সরে যাওয়ার শঙ্কাও ভোগাচ্ছে না তাদের। কারণ, দেশটির বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা বাংলাদেশের তুলনায় বেশ কম। তবে সার্বিকভাবে অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও রফতানি আয়ে ধাক্কা লাগবে, সেই হিসাব কষেই আগামীর নীতি-কৌশল সাজানোর তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

আমেরিকার তৈরি পোশাক বাজারে শীর্ষ ৫ রফতানিকারক দেশের মধ্যে বর্তমানে চীনের ২০.৪৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের ১৯.৩৮, বাংলাদেশের ১১.০৭, ইন্ডিয়ার ৭.০৫ ও ইন্দোনেশিয়ার দখলে রয়েছে ৫.৭৬ শতাংশ। তবে বর্তমানে ভিয়েতনাম ও চীনের তুলনায় দুই থেকে ৩ গুনের বেশি প্রবৃদ্ধি নিয়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ। 

আর প্রবৃদ্ধির হিসাবে ইন্ডিয়া, বাংলাদেশের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেললেও রফতানিতে রয়েছে বেশ পিছিয়ে। এর মধ্যে আবার ট্রাম্পের আগের মেয়াদ থেকেই মার্কিন বাজারে আধিপত্য হারাচ্ছে চীন।
 
উদ্যোক্তারা বলছেন, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে পড়বে ভিয়েতনাম। চীনা পণ্যে শুল্ক কম হলেও পোশাকের ভিন্নতার কারণে বাজার হারানোর খুব একটা শঙ্কা নেই বাংলাদেশের। শুল্কের হিসাবে ইন্ডিয়া-ইন্দোনেশিয়া ভালো অবস্থানে থাকলেও পিছিয়ে রয়েছে উৎপাদন সক্ষমতায়।
 
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, নতুন এই শুল্কারোপ ছাড়াও চীনের ওপর অন্য বাণিজ্য যুদ্ধ থাকবে। ফলে মার্কিন আমেরিকা চীনের রফতানি অবশ্যই কমবে। এতে একটা বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হবে, যেখানে সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের।
 
প্লামি ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশ যে ধরনের পোশাক তৈরি করে, ইন্ডিয়াও প্রায় একই ধরনের পোশাক তৈরি করে। দেশটি আমেরিকা যে পরিমাণ পোশাক রফতানি করে, তার বেশি সক্ষমতা তাদের নেই। তাই নতুন করে খুব বেশি অর্ডার তারা এখনই পেয়ে যাবে এমনটি নয়।
 
তবে চড়া শুল্কের কারণে আমেরিকার বাজারে হোঁচট খেতে পারে বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়- এমন আশঙ্কা সামনে রেখেই নীতি-কৌশল সাজানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।
 
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনো দেশ থেকে কম, আবার কোনো দেশ থেকে বেশি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশ কম শুল্ক দিয়ে পণ্য রফতানির সুযোগ পাবে ইন্ডিয়া। তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতার পরিবেশের দিক থেকে বিবেচনা করে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা পণ্য কেনে, তাহলে হয়তো রফতানি কমবে।
 
একক পণ্য নির্ভরতা থেকে সরে আসতে না পারলে আগামীতে এমন ধাক্কা সামলানো আরও কঠিন হবে বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading