চীনের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করলেন ট্রাম্প
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১২:২০
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বড় ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্বের ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। তবে চীনকে কোনো ছাড় দেননি তিনি। দেশটির ওপর শুল্ক ১০৪ শতাংশ থেকে আরও একবার বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করেছেন।
এর ফলে আমেরিকা এখন চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আদায়প করবে। ট্রাম্প বলেন, চীন বিশ্ববাজারের সঙ্গে বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে যে আচরণ করেছে, তা আর সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, চীনের আমেরিকা ও অন্যান্য দেশ থেকে সুবিধা নেয়ার সেই যুগ এখন শেষ। আমেরিকা এখন তার স্বার্থ রক্ষা করবে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক বৃদ্ধি করছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা জবাব দিয়ে চীন বলছে, তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
গত বুধবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ন্যূনতম শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওইদিন চীনের ওপর নতুন করে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন তিনি যা পূর্বে আরোপিত শুল্কসহ ৫৪ শতাংশে দাঁড়ায়।
ট্রাম্পের ঘোষণার পরদিন বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) চীন এক বিবৃতিতে আমেরিকাকে শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করার আহ্বান জানায় এবং পরদিন শুক্রবার (৪ এপ্রিল) আমেরিকা থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
জবাবে চীনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। গত সোমবার (৭ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘চীন যদি মঙ্গলবারের (৮ এপ্রিল) মধ্যে আমেরিকার পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার না করে, তাহলে আমেরিকা বুধবার (৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকরভাবে চীনের ওপর অতিরিক্ত আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। সেই সঙ্গে আমাদের সাথে চীনের অনুরোধকৃত সব আলোচনা বাতিল করা হবে।’
কিন্তু ট্রাম্পের হুমকি মাথায় নত করেনি চীন। মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করেনি দেশটি। যার প্রেক্ষিতে বুধবার (৯ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী চীনা বেশকিছু পণ্যের ওপর ১০৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যা বুধবার থেকেই এটি কার্যকর হবে।
হোয়াইট হাউসের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা জবাব দিয়েছে বেইজিং। বিবিসির এক প্রতিবেদন মতে, আমেরিকার থেকে সমস্ত পণ্যে আমদানি শুল্ক ৩৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ শতাংশে উন্নীত করে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার চীনের স্টেট কাউন্সিলের কাস্টমস ট্যারিফ কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) থেকেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে।
এর মধ্যে বিশ্বের ৭৫টিরও বেশি দেশের ওপর আরোপ করা নতুন শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ে দেশগুলোর পণ্যে পাল্টা শুল্ক ন্যূনতম ১০ শতাংশ কার্যকর হবে। তবে চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।
বুধবার (৯ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ‘চীন বিশ্বের বাজারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার যে ঘাটতি দেখিয়েছে, তার ভিত্তিতে আমি আমেরিকা চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ ধার্য করছি। এটা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আশা করি, নিকট ভবিষ্যতে চীন ও অন্যান্য দেশ উপলব্ধি করতে পারবে যে আমেরিকার সঙ্গে প্রতারণার দিন আর থাকবে না বা গ্রহণযোগ্য হবে না।’
ইউডি/কেএস

