ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়েছিলাম: অপু বিশ্বাস

ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়েছিলাম: অপু বিশ্বাস

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০১ জুন, ২০২৫, আপডেট ০৮:২০

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস জীবনের একটি সংবেদনশীল অধ্যায় নিয়ে প্রথমবারের মতো খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, শাকিব খানের সঙ্গে বিয়ের পর ‘ধর্ম পরিবর্তন’ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু ক্যারিয়ার, সংসার আর সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি মিথ্যা বলেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

২০০৮ সালে শাকিব খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অপু বিশ্বাস। প্রায় এক দশক সেই খবর গোপন রাখার পর, ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল সন্তান আব্রাম খান জয়কে কোলে নিয়ে টেলিভিশন লাইভ অনুষ্ঠানে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক প্রকাশ করেন তিনি। লাইভে অপু সেদিন বলেছিলেন, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

তবে বর্তমানে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি কখনো ধর্মান্তরিত হননি।

অপু বিশ্বাস বলেন, “বিয়ের পরও আমি হিন্দু ধর্মেই থেকেছি। ক্যামেরার সামনে অনেক সময় বাস্তবতা লুকিয়ে রাখতে হয়েছে। সেটা করেছি ক্যারিয়ারের স্বার্থে, সংসার রক্ষার জন্য, আর সবচেয়ে বড় কথা— সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে।”

তিনি জানান, শাকিব খানের সঙ্গে বিবাহিত জীবন থাকা অবস্থাতেও প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্ক অস্বীকার করতে হয়েছে। “অনেক শোতে একে অপরকে বিয়ের প্রসঙ্গে প্রশ্ন শুনতে হয়েছে, অথচ আমরা তখন বাসায় একসঙ্গে থাকতাম, রান্না করতাম, খেতাম— পুরোদস্তুর স্বামী-স্ত্রী,” বলেন অপু।

ধর্ম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, “মানুষ ধরে নিয়েছিল আমি মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করেছি বলে আমিও ইসলাম গ্রহণ করেছি। কিন্তু ইসলামে ধর্মান্তরের যেসব আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে, তার কোনোটিই আমার ক্ষেত্রে ঘটেনি। আমি আমার জন্মগত ধর্ম হিন্দুত্বেই থেকেছি।”

নিজের পরিচয় নিয়ে দীর্ঘ সময় দ্বিধায় ছিলেন বলেও জানান অপু বিশ্বাস। তবে এখন তিনি মনে করেন, সত্য প্রকাশ করা জরুরি। তার ভাষায়, “আমি একসময় চিন্তা করতাম, আমার মৃত্যু হলে মানুষ কী করবে? আমাকে আগুনে দেবে, না মাটিতে দেবে? তখন সবাই দ্বিধায় পড়ে যাবে। এই দ্বিধা কাটাতে সত্য বলা প্রয়োজন ছিল।”

ইউড/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading