আমরা কি মাননীয় শব্দ বাদ দিতে পারি না, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ২০২৫, আপডেট ২৩:৩০
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার, এই মাননীয় কথাটাকে কি আমরা বাদ দিতে পারি না?
তিনি বলেন, আমার কেন জানি মনে হয়, এই মাননীয় কথাটা থেকেই কিন্তু সমস্ত অটোক্রেসির জন্মটা বোধহয় হয়। আমাদের যেই মন্ত্রী হয়ে গেলো, সেই ভিন্ন জগতে চলে যায়।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘সিভিল ডিসকোর্স ন্যাশনাল ২০২৫: ভয়েস অব ডেমোক্রেসি – রিথিংকিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে ঢাকা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি ও প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ’।
গণতন্ত্রের চর্চা ছাড়া একটি দেশের সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকশিত হতে পারে না— এমন মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভিন্নমতকে দমন নয়, বরং তার প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “তর্ক-বিতর্ক ও মতের অমিল গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু একমতের বাইরে থাকা মানেই শত্রুতা— এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে কাউকে স্বীকৃতি দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে গণতন্ত্র এগোবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা লিবারেল ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাস করি। আমার মতপ্রকাশের যেমন অধিকার আছে, তেমনি তোমারও আছে। দেশের জন্য এই অধিকার রক্ষা করা জরুরি। ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং শ্রদ্ধা না থাকলে গণতন্ত্র নিঃস্ব হয়ে পড়ে।”
বক্তব্যে তরুণদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন— মনে করছেন বাংলাদেশ দিয়ে কিছুই হবে না। কিন্তু আমি আশাবাদী মানুষ। আমি বিশ্বাস করি, এই তরুণরাই একদিন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।”
ইউডি/এবি

