আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকা ৬ জুলাই শহীদের দাফন
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৯ জুলাই, ২০২৫, আপডেট ১২:২০
রক্তাক্ত জুলাইজুড়ে রাজপথে রচিত হয়েছে লড়াইয়ের নিত্যনতুন ইতিহাস। অনিশ্চয়তার দোলাচলে হার না-মানা তারুণ্য অধিকার আদায়ে ছিল বদ্ধপরিকর।
সেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ণ হয়েছে এক বছর। আজও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পড়ে আছে অভ্যুত্থানে নিহত ছয়জনের বেওয়ারিশ লাশ। দাফন কার্যক্রম আটকে আছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়।
সরেজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ছয়জনের নিথর দেহগুলো এক বছর ধরে পড়ে আছে হিমঘরে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে থেকে ২০, ২২ ও ২৫ বছর বয়সি তিন যুবকের মরদেহ আনা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। একইদিন মর্গে আসে নিহত ৩০ বছর বয়সি এক যুবক ও অজ্ঞাতনামা ৩২ বছর বয়সি এক নারীর মরদেহ। তবে তারা ঢাকার কোন এলাকায় মারা গিয়েছিলেন তা অজানা। ৭ আগস্ট গুলিস্তান থেকে আনা হয় ২৫ বছর বয়সি আরেক যুবকের মরদেহ।
ছয়টি লাশেরই সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে শাহবাগ থানা পুলিশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে তাদের। একজনের মৃত্যু হয়েছে উঁচু স্থান থেকে পড়ে।
মরদেহগুলো থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডিএনএসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা মেডিকেল ও সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ।
কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত হয়নি। দাফন করা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল ও ডিএমপির মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও হয়নি সুরাহা। এরইমধ্যে বিকৃত হয়ে পড়ছে মরদেহগুলো।
এ বিষয়ে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, লাশগুলো শনাক্ত করার জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। এখনও কেউ শনাক্ত করার জন্য আসেনি। একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি উত্তরাধিকার বা দাবিদার না থাকে, সে ক্ষেত্রে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ছয়জনের লাশের দাফন হোক, এটাই সবার চাওয়া।
ইউডি/এআর

