জবিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অছাত্রদের প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি

জবিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অছাত্রদের প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫, আপডেট ১৫:৫০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ শিক্ষক ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) ৩ নেতার ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অছাত্রদের প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৩ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রদের আজীবনের জন্য বহিষ্কারের দাবি জানান।

এছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অছাত্রদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ ও হামলায় জড়িত অছাত্রদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

এই সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, যেই হাত শিক্ষক মারে, সেই হাত ভেঙে দাও, ছাত্রদলের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, এক দুই তিন চার, অছাত্ররা ক্যাম্পাস ছাড়, অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন, জবি প্রশাসন, লজ্জা লজ্জা, ছাত্র পরিচয়ে সন্ত্রাস, লজ্জা, লজ্জা।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ বলেন, এই ক্যাম্পাসে কোনও দিন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার সাহস কেউ করেনি। ৫ আগস্টের আগেও আমাদের শিক্ষকের গায়ে কেউ হাত দেয়নি। ৫ আগস্টের পরে এসে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার সাহস তারা কোথায় পেল?

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল ইসলাম বলেন, আগে শিক্ষার্থীদের ট্যাগ দিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে দিতো না। ট্যাগের রাজনীতি আবার শুরু হয়েছে। আগে দেওয়া হত শিবির ট্যাগ। এখন ছাত্রলীগ ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। যারা জুলাইয়ে আহত হয়েছে, তাদেরও ট্যাগ দিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইরফান বলেন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা জুলাইয়ে আহত হন এবং বিগত সময়েও ছাত্রদল করেছে তাদেরকেও ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে হামলা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বডিতে থাকা ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. এ কে এম রিফাত হাসান এবং সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলামের উপরও হামলা করে তারা।

তিনি বলেন, যেখানে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের নিরাপত্তা নেই। সেখানে এসব সন্ত্রাসীদের থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিরাপদ থাকবে? কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন নিন্দাটুকু জানায়নি। এছাড়া নিরব ভূমিকায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির শিক্ষকরাও।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেক রেসাদের ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে মারধর শুরু করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ড. এ কে এম রিফাত হাসান এবং সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম রক্ষা করতে গেলে তাদেরকে গালিগালাজ ও হামলা করে ছাত্রদলের নেতকর্মীরা। একইসঙ্গে শাখা বাগছাস সভাপতি, মুখ্য সংগঠক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক যথাক্রমে মো. ফয়সাল মুরাদ, ফেরদৌস হাসান এবং ফারুককে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে তাদেরও মারধর করা হয়।

ইউডি/এআর

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading