কতজন রুশ সেনা লড়ছে ইউক্রেন যুদ্ধে, জানালেন পুতিন
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৮:৩৫
ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বর্তমানে কতজন রুশ সেনা লড়ছে, সেই সংখ্যা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার রাজধঅনী মস্কোতে ‘টাইম অব হিরোস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য দিয়েছেন পুতিন।
“বর্তমানে আমাদের সেনাবাহিনীতে স্টেশনড অবস্থায় আছেন মোট ৭ লাখ সেনা। যে কোনো অপরেশনের সময় তাদের মধ্যে থেকে উপযুক্তদের বাছাই করা হয়। বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয় হয়— যারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়”, অনুষ্ঠানে বলেন পুতিন।
মস্কো সাধারণত রুশ সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রদান করে না। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে রুশ শিবিরে সক্রিয় সেনার সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেটিও পুতিনই করেছিলিন। তিনি বলেছিলেন, রুশ সেনাবাহিনীতে বর্তমানে সক্রিয় অবস্থায় আছেন ৬ লাখ সেনা।
এক প্রতিবেদনে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, গত বছর সেপ্টেম্বরে বাহিনীতে প্রায় ২৪ লাখ নতুন সেনা যোগ করেছে রাশিয়া। তবে যুদ্ধে রাশিয়ার যেসব কমিশন্ড সেনা কর্মকর্তরা নিহত হয়েছেন, তাদের শূন্যস্থান কীভাবে পূরণ করা হয়েছে কিংবা আদৌ হয়েছে কি না— তা এখনও স্পষ্ট নয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীতে ৯ লাখ সেনা স্টেশনড অবস্থায় আছে। তবে গত ৯ মাসের যুদ্ধে অনেক সেনা নিহত হয়েছেন। সেনা সংখ্যা সংক্রান্ত হালনাগাদ কোনো তথ্য এখনও দেয়নি ইউক্রেন।
কৃষ্ণ সাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের আবেদনকে ঘিরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। এই টানাপোড়েনের এক পর্যায়ে পুতিনের নির্দেশে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে শুরু হয় রুশ বাহিনীর সামরিক অভিযান, যা এখনও চলছে।
যুদ্ধে ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন দুই পক্ষের হাজার হাজার সেনা। গত মে মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে কয়েক হাজার যুদ্ধবন্দি ও সেনাদের মরদেহ হস্তান্তর করেছে রাশিয়া ইউক্রেন। এছাড়া পুতিন ও জেলেনস্কি গত আগস্টে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। তবে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র : আরটি
ইউডি/এআর

