দেশে প্রথমবারের মতো টাইফয়েড টিকাদান শুরু আজ

দেশে প্রথমবারের মতো টাইফয়েড টিকাদান শুরু আজ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ০৯:০০

দেশে টাইফয়েডের টিকাদান শুরু হচ্ছে আজ রবিবার রাজধানীর আজিমপুরের স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা টিকা কেন্দ্রে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির উপপরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ কর্মদিবসে (রবি-বৃহস্পতিবার) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়া হবে। শনিবার ও বাকি দিনগুলোতে নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে। আর ৩০ অক্টোবরের পর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হবে কমিউনিটি পর্যায়ে।

এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে বিনা মূল্যে এই টিকা দেবে সরকার। জন্মসনদ না থাকলেও শিশুরা টিকা পাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি দেশে টাইফয়েডের প্রথম টিকাদান ক্যাম্পেইন। টিকাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্যাভির সহায়তায় সরকারের পাওয়া টিকাটি তৈরি করেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। এর আগে নেপাল, পাকিস্তানসহ ৯টি দেশে প্রয়োগ করা হয়েছে এই টিকা। এতে এখনও বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

কারা পাবে এই টিকা?
ক্যাম্পেইনের আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি বা সমমান পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী এক ডোজ করে টাইফয়েডের টিকা পাবে। এ ছাড়া ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে না, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই টিকা দেওয়া হবে। শহর এলাকার পথশিশুদের জন্য দায়িত্বে থাকবে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা।

কেন জরুরি এই টিকাদান?
গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশে ২০২১ সালে ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে আট হাজার মানুষ মারা যায়, যাদের ৬৮ শতাংশই শিশু। ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, টাইফয়েড সারাতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়। এই টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে টাইফয়েড কমে এলে দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারও কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ওষুধ-প্রতিরোধী টাইফয়েড জ্বরের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। তাই এই টিকা সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিবন্ধন করবেন যেভাবে
টিকা নিতে হলে https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv লিঙ্ক থেকে ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর জন্মসনদ ব্যবহার করে ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ১ আগস্ট। যাদের জন্মসনদ নেই, তারা নিকটস্থ টিকা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা নেবে। ইতোমধ্যে দুই কোটি শিশু এই টিকার জন্য নিবন্ধন করেছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading