খুলনা নগরীতে সড়কের ডিভাইডার নিয়ে ভাঙা-গড়ার খেলা
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১২:৫৫
সড়ক সম্প্রসারণের জন্য গত বছর খুলনা নগরীর খান জাহান আলী সড়কের পিটিআই থেকে রয়েল মোড় অংশের ডিভাইডার ভেঙে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ফেলে রাখার পরে সেই একই স্থানে আবারও ডিভাইডার নির্মাণ কাজ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন তৈরি করা অংশটিও ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
দেখা যায়, কয়েকদিন আগে নির্মিত ইটের গাঁথুনি খুলে রাস্তার পরে রাখা হয়েছে। শ্রমিকরা বলেন, প্রথমে যেখানে ডিভাইডার দিতে বলেছিল সেখানে দিয়েছি, এখন তুলে ফেলতে বলেছে, তাই ভেঙে দিয়েছি। নতুন জায়গা দেখানোর পরে আবার নির্মাণ করব।
এদিকে এমন ভুলের কারণ হিসেবে কেসিসি বলছে ঠিকাদার তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করায় ঘটেছে এমন বিড়ম্বনা। একই স্থানে আবারও ডিভাইডার নির্মাণ হলে সংকুচিত হয়ে পড়বে সড়ক। তাই আর্কিটেকচারদের পরামর্শে সরানো হচ্ছে এটি। এদিকে এই সড়কের পাশের ড্রেনের উপর নির্মিত স্লাবের ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা। কিছুদিন আগে দেওয়া কংক্রিটের ঢালাই ভেঙে ফেলা হয়েছে আবারও। ভাঙা গড়ার এই খেলাকে অনিয়ম এবং খামখেয়ালি পরিকল্পনা হিসেবেই দেখছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা।
ইজিবাইক চালক নাইম শেখ বলেন, রূপসা থেকে শিববাড়ি এই রোডেই গাড়ি চালাই। কয়দিন আগে দেখলাম রাস্তার মাঝখানে ডিভাইডার বানালো, আবার এখন দেখি ভেঙে ফেলাইছে। ওদিকে ড্রেণের উপরও ঢালাই ভাঙছে। এত শক্ত করে বানানো, ভাঙতে পারে না মোটে, তারপরেও ভাঙল। কখন কি মনে চায় ওরাই জানে, আর আমাদের দুর্ভোগ বাড়ে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক খান মেহেদী হাসান বলেন, এভাবে ভাঙ্গা-গড়া সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়। এসব অনিয়ম রোধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত খুবই প্রয়োজন। তা না হলে অর্থের দন্ডির পাশাপাশি জনভোগান্তিও বাড়বে অনেক।
এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মাদ মাসুদ করিম বলেন, বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচারদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিভাইডার নির্মাণ করা হবে।
ইউডি/রেজা

