ঘুমন্ত অবস্থায় মাদ্রাসাছাত্রকে গলা কেটে হত্যা

ঘুমন্ত অবস্থায় মাদ্রাসাছাত্রকে গলা কেটে হত্যা

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১৫:৪৫

ঘুমন্ত অবস্থায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক মাদ্রাসাছাত্রকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত আরেক ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। তিনি জানান, রবিবার দিবাগত রাতের কোনও এক সময় উপজেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাটরা আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া মাখফুনুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ছাত্রের নাম নাজিম উদ্দিন (১৩)। সে উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের ওবায়েদ উল্লার ছেলে। অপরদিকে, অভিযুক্ত আবু সায়েদ (১৬) ময়মনসিংহ জেলার টেঙ্গাপাড়া গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাটরা আল মাদ্রাসাতুল ইসলামিয়া মাখফুনুল উলুম মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে থেকে নাজিম ২২ পারা ও সায়েদ ২৩ পারা পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করে। গত ১০-১৫ দিন আগে টুপি পরা নিয়ে নাজিম ও আবু সায়েদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে মাদ্রাসার এক শিক্ষক বিষয়টি জানতে পেরে তাদের মধ্যে মিটমাট করে দেন। কিন্তু এ ঘটনার জের ধরে নাজিমের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সোনাইমুড়ী বাজার থেকে ৩শ টাকা দিয়ে একটি ধারালো ছুরি কিনে নিয়ে আসে সায়েদ। প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতে মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন ১৪ জন ছাত্র ও একজন শিক্ষক। রাত আড়াইটার দিকে অন্য ছাত্রদের অগোচরে সায়েদ ঘুম থেকে উঠে ঘুমন্ত নাজিমের গলা কাটে। ওই সময় নাজিমের গলার গোঙরানির আওয়াজ শুনে একই কক্ষে থাকা ছাত্র ও শিক্ষকরা ঘুম থেকে জেগে উঠে এ ঘটনা দেখতে পান।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে ভোররাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্ত ছাত্রকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করা হয়। টুপি পরা নিয়ে দুই ছাত্রের মধ্যে বিরোধের সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।’

লাশের সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।   

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading