হিজাব নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য : ক্ষমা চাইলেন সেই রাবি শিক্ষক

হিজাব নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য : ক্ষমা চাইলেন সেই রাবি শিক্ষক

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১২:৫৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আল মামুনের হিজাব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে কঠোর সমালোচনা।

এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।

তিনি পোস্টে লিখেছেন ‘আমি এক এগারোর সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল করে জেল খেটেছি। ২০১৩ সাল থেকে নানাভাবে ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে জুলুম-অত্যাচারের ক্রিটিক করেছি ২০২৪ পর্যন্ত ফেসবুকে এবং বইপত্রে। সে সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম। শিক্ষক হিসেবে আন্দোলনকারীদের আগলে রেখেছিলাম। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনমুহূর্তে স্বপ্ন দেখেছিলাম সম্পূর্ণ নতুন এক বাংলাদেশের। কিন্তু এরপরে বহু ঘটনা ঘটেছে, যেমন চেয়েছিলাম, বাংলাদেশ সেদিকে হাঁটেনি। ব্যাপক হতাশা কাজ করে আমার মধ্যে।‘

তিনি লেখেন, ‘হতাশাগ্রস্ত আমি ঝোঁকের বশে এমন কিছু লিখি যা লেখা উচিত হয়নি। তা আমি লিখতে চাইওনি। মিস রিডিং হবে বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে আমি পোস্টটি সরিয়ে নিই। পোশাক বিষয়ে আমার ভাবনা পরিষ্কার- পোশাকের কারণে আমি কাউকে বড় বা ছোট করে দেখি না। ‘হিজাব’ ডিফেন্ড করার মতো অনেক পোস্ট পাবেন আমার। এ শিক্ষা আমার ‘সন্ত্রাসবিরোধী অনন্ত যুদ্ধ’র ক্রিটিক করতে গিয়েই হয়েছে। ফলে আপনারা যা ভাবছেন-সে রকম কোনো উপহাস বা তাচ্ছিল্য আমি করি না। এক মুহূর্তে পোস্ট করে পারসোনালাইজ করেছিলাম। এ নিয়ে আরও ভাবনা-চিন্তা করার জন্য। কিন্তু সেই মুহূর্তেই কেউ এ পোস্ট স্ক্রিনশট নিয়ে ছড়িয়ে দেয়। খেয়াল করলে দেখবেন, ওই পোস্টে কোনো লাইক, কমেন্ট, শেয়ার কিছু নাই, কোনো ইন্টারএকশন নাই!’

তিনি আরও লেখেন, ‘তারপরও কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে, আমি দুঃখিত। আমি সব সময়ই শিক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা করি। আশা করি, বিভ্রান্তিকর উত্তেজনা এবার প্রশমিত হবে। আমি চাই না, আমাকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে তার প্রেক্ষিতে আমার বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কোনো প্রকার অসুবিধার সম্মুখীন হোক বা অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কলহে জড়াক! শুভকামনা সবার জন্য।’

এদিকে তার বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছেন রাকসুর প্রতিনিধিরা। এর আগে, সোমবার রাত ১১টায় তার মন্তব্যের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার কথা জানান তারা।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading