ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানোর চূড়ান্ত মঞ্চ তৈরি করেছেন ট্রাম্প?

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানোর চূড়ান্ত মঞ্চ তৈরি করেছেন ট্রাম্প?

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১০:০০

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক মহড়া নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ফলে ওয়াশিংটন-কারাকাস উত্তেজনাও চরমে পৌঁছেছে। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করেছেন, যদিও তিনি এর বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এই ঘোষণার পর ভেনেজুয়েলা এটিকে লাতিন আমেরিকার জন্য ঔপনিবেশিক হুমকি বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আগেই সতর্ক করেছিলেন, সামরিক হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন মনগড়া অভিযোগ করছে। দেশটির মানুষ বর্তমানে গভীর উদ্বেগে রয়েছে। ভেনেজুয়েলাও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত মহড়া চালাচ্ছে। সেই সাথে যেকোনো সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় বড় আকারের সামরিক সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

মাদক চোরাচালান দমনের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করছে বলে দাবি করেছে আমেরিকা। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে, মার্কিন প্রশাসন কথিত মাদকবাহী নৌকা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা শুরু করে। এরপর থেকেই দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতিও বাড়ায়। তবে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া নৌকাগুলোতে মাদক ছিল এমন কোনো প্রমাণ ওয়াশিংটন সরবরাহ করেনি। এই হামলায় কমপক্ষে ৮৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ‘কার্টেল দে লোস সোলেস’ নামে পরিচিত একটি সংগঠনকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই সংগঠনটি ১৯৯০-এর দশকে ভেনেজুয়েলার সামরিক জেনারেল ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাদক চোরাচালান ও সম্পর্কিত অপরাধের তদন্তের সময় সামনে আসে।

ভেনেজুয়েলায় এটিকে মাদক কার্টেল হিসেবে নয় বরং দুর্নীতি এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের একটি সাধারণ পরিচয় হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন এটিকে ভেনেজুয়েলা রাষ্ট্রীয় মাদকচক্র বলে দাবি করছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকরা বলছেন, তাদের সামরিক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক আইন এবং আমেরিকার সংবিধান লঙ্ঘন করছে। আইন বিশেষজ্ঞরা এই নৌকায় এই প্রাণঘাতী হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন। রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পলও এটিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ভুয়া খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই হামলাকে আইনসম্মত বলে দাবি করেছেন।

মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফেইন বলেছেন, কেবল কংগ্রেসই সামরিক বাহিনীর আক্রমণাত্মক ব্যবহারের অনুমোদন দিতে পারে। তিনি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশগুলোর আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন, ওয়াশিংটন বেআইনিভাবে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্র তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক নীতির মূলে রয়েছে ভেনেজুয়েলার তেলের বিশাল মজুদ এবং পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন চায় ভেনেজুয়েলা চীন, রাশিয়া বা ইরানের পরিবর্তে দৃঢ়ভাবে মার্কিন কৌশলগত পছন্দের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করুক।

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কঠোর নীতির পক্ষে জোর দিয়েছেন।

আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্ররাও ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই হামলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারোট বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। তবে, আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর উত্তরে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্ধারণ করে না আন্তর্জাতিক আইন কী।

সূত্র: আল জাজিরা

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading