মাদুরোর উত্তরসূরি কে এই ডেলসি রদ্রিগেজ?

মাদুরোর উত্তরসূরি কে এই ডেলসি রদ্রিগেজ?

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৪ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৩:৪৫

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশটির নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করেছে আমেরিকা। এরপরই দেশটির শাসনভার গ্রহণ করেন ডেলসি রদ্রিগেজ।

ভেনেজুয়েলার সংবিধানের ২৩৩ এবং ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্টের সাময়িক বা স্থায়ী অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন ডেলসি রদ্রিগেজ। মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে তিনি মাদুরো দম্পতির ‘তাৎক্ষণিক মুক্তি’ দাবি করেন এবং মার্কিন সামরিক অভিযানের কঠোর ভাষায় নিন্দা জানান।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভিতে সম্প্রচারিত ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, ‘এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং লাতিন আমেরিকার সব সরকারকে এর নিন্দা জানাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই। আজ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা যেকোনো দেশের সঙ্গেই করা হতে পারে। জনগণের ইচ্ছাকে দমন করতে এমন নিষ্ঠুর শক্তি প্রয়োগ যেকোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই চালানো হতে পারে।’

ডেলসি রদ্রিগেজ (৫৬) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব ভেনেজুয়েলা থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন।

তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘চাভিসমো’ রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ। চাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সাল থেকে নিকোলাস মাদুরো এর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

এছাড়াও তিনি তিনি চাভেজ যুগ থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২০১৩–২০১৪ সালে তিনি যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ সালের সরকারব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান পরিষদের সভাপতি হন রদ্রিগেজ। ২০১৮ সালে মাদুরো তার দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া মাদুরোর তৃতীয় মেয়াদেও তিনি এ পদে বহাল ছিলেন। মাদুরো আটক হওয়ার আগে তিনি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হোসে ম্যানুয়েল রোমানো আমেরিকা ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রদ্রিগেজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে তিনি সরকারের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা এবং প্রেসিডেন্টের পূর্ণ আস্থাভাজন।’

যদিও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল দাবি করে, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছিল জালিয়াতিপূর্ণ এবং মাদুরো বৈধভাবে নির্বাচিত নন। তাদের মতে, প্রকৃত বিজয়ী ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এডমুন্দো গঞ্জালেস উরুতিয়া।

আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত?

মাদুরো আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন এক অধ্যায়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

ট্রাম্প বলেন, তিনি মার্কোর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা যা চান, আমরা তা করব।’ তিনি যথেষ্ট সৌজন্যপূর্ণ ছিলেন। আমরা বিষয়টি সঠিকভাবে এগিয়ে নেব।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, রদ্রিগেজ আমেরিকাকে বড় ধরনের ছাড় দেবেন, এমন সম্ভাবনা কম।

জ্যাক ডি. গর্ডন ইনস্টিটিউটের নীতি বিশ্লেষক ও সাবেক তুর্কি কূটনীতিক ইমদাত ওনার সিএনএনকে বলেন, ‘তিনি মাদুরোর কোনো মধ্যপন্থি বিকল্প নন। বরং পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে শক্ত অবস্থানের নেতাদের একজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার ক্ষমতায় আসা সম্ভবত আমেরিকা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শক্তির মধ্যে একটি সমঝোতার ফল, যা মাদুরো-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো নেতার দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত একজন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করবে।

তবে মাদুরো আটক হওয়ার পর রদ্রিগেজের প্রথম বক্তব্যগুলোতে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সকালে ভিটিভিকে দেয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মাদুরো ও ফ্লোরেস কোথায় আছেন তা অজানা এবং তাদের জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করেন। পরে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘এই দেশে একজনই প্রেসিডেন্ট আছেন, তার নাম নিকোলাস মাদুরো মোরোস।’

ইউডি/করিম

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading