মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে গোলাগুলি, বিজিবির সতর্কতা

মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে গোলাগুলি, বিজিবির সতর্কতা

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট ১৫:১০

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনায় সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে থাকলেও বিজিবির পক্ষ থেকে তাদের সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে উপজেলার হোয়াইক্যং উত্তর পাড়া সীমান্তে এই গোলাগুলি শুরু হয়, যা থেমে থেমে শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

উখিয়ার ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি হচ্ছে, যা এপারে শোনা যাচ্ছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে শুক্রবার রাত থেকে শুরু করে থেমে থেমে শনিবার সকাল পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। হয়তো তাদের অভ্যন্তরে কোনো ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে এই গোলাগুলি। তবে আমরা স্থানীয়দের সীমান্তে না যেতে এবং সাবধানে চলাফেরা করার জন্য সচেতন করছি। তারপরও সীমান্তের অনেক বাসিন্দা শোনেন না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে ওই এলাকায় নদীতে মাছ শিকারের সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আলমগীর (৩১) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, “মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় থেমে থেমে সারারাত গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আজও সকাল থেকে গোলাগুলি শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।”

হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুল আমিন বলেন, “শুক্রবার রাতে কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনার পর ভয়ে আর ঘুমাতে পারিনি। রাখাইনের হোয়াইক্যং সীমান্তের খুব কাছ থেকেই এসব গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে।”

হোয়াইক্যং সীমান্তের জেলে আলি আহমেদ বলেন, “হোয়াইক্যংয়ের ওপারে রাখাইন সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এতে নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে যেতে ভয় লাগে। রাতে বাড়িতে ঘুমালেও মনের ভেতর সারাক্ষণ আতঙ্ক কাজ করে।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “গোলাগুলির মধ্যে সীমান্তে না যেতে এবং সতর্কতা অবলম্বনের জন্য জেলে ও সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে বলা হয়েছে।

“তবে নাফ নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু জেলে সেখানে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

২৭ ডিসেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading