‘ইরানে চলমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভে আহত প্রায় ৪ লাখ, নিহত ১৬,৫০০
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৩:৪০
ইরানে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে সরকারের দমন-পীড়নে কমপক্ষে ১৬,৫০০ বিক্ষোভকারী নিহত এবং ৩,৩০,০০০ জন আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি নতুন প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে ইরানের শাসনব্যবস্থার অবসানের দাবিতে পরিণত হয় দেশটির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর প্রথম প্রকাশ্য স্বীকৃতি হিসেবে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন যে অস্থিরতার ফলে ‘কয়েক হাজার’ মানুষ মারা গেছে।
এই বিদ্রোহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদেরকে সমর্থন করি, আমরা আপনাদের সামরিকভাবে সমর্থন করি, আপনারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। সহায়তা আসছে।’
এদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিকিৎসকদের তথ্য অনুসারে সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কমপক্ষে ১৬,৫০০ বিক্ষোভকারী মারা গেছেন এবং ৩,৩০,০০০ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, নিহতদের বেশিরভাগের বয়স ৩০ বছরের কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানি-জার্মান চক্ষু সার্জন এবং মিউনিখ এমইডি-র মেডিকেল ডিরেক্টর অধ্যাপক আমির পারাস্তা প্রকাশনাটিকে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ এবার বিক্ষোভ মোকাবেলায় সামরিক-গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করছে। কারণ বিক্ষোভকারীদের মাথা, ঘাড় এবং বুকে গুলির এবং ছুরির ক্ষত দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের আটটি প্রধান চক্ষু হাসপাতাল এবং ১৬টি জরুরি বিভাগের কর্মীদের সংগৃহীত তথ্য অনুসারে, কমপক্ষে ১৬,৫০০ থেকে ১৮,০০০ মানুষ নিহত এবং ৩৩০,০০০ থেকে ৩৬০,০০০ আহত হয়েছেন। যার মধ্যে শিশু এবং গর্ভবতী নারীরাও রয়েছেন।
এছাড়া কমপক্ষে ৭০০ থেকে ১,০০০ মানুষ চোখ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। তেহরানের একটি হাসপাতাল, নূর ক্লিনিক, ৭,০০০ চোখের আঘাতের ঘটনা রেকর্ড করেছে।
আরও জানানো হয়, রক্তের অভাবে অনেক মানুষ মারাও গেছেন। বেশ কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মীরা রোগীদের বাঁচানোর জন্য তাদের নিজস্ব রক্ত দান করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে, আমেরিকা-ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা (এইচআরএএনএ) এখন পর্যন্ত ৩,০৯০ জনের মৃত্যু এবং ২,৮৮৫ জন বিক্ষোভকারীসহ ২২,০০০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ডিসেম্বরে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ব্যাপক বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন জনগণ। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ সহিংস বিক্ষোভে পরিণত হয়। এরপর বিক্ষোভ সরকার পতনের আন্দোলনে গিয়ে ঠেকে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে, ইরান ব্যাপক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে ছিল, ফলে বিক্ষোভের উপর দমন-পীড়নের তথ্য সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং ইরানিদের বিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
ইউডি/রেজা

