সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা

সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৩:২৫

রাজধানীর বাজারে মুরগির দাম আরেক দফা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে মুরগির বাজারে উত্তাপ থাকলেও গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের মৌসুমে বিয়েশাদি, পিকনিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বাড়ায় মুরগির দামে এই প্রভাব পড়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন তথ্য বলছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে ছিল। একইভাবে সোনালি ও অন্যান্য জাতের মুরগির দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও সোনালি মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তা বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহে বড় ধরনের সংকট না থাকলেও শীতের কারণে খামার পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে, তার প্রভাব খুচরা বাজারে এসে পড়েছে।

অন্যদিকে গরু ও খাসির মাংসের বাজারে দামে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কিছু মাছের দামে আগের তুলনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। মাঝারি আকারের রুই মাছ বর্তমানে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়। পাবদা মাছের দাম ৪০০ টাকা, টেংরা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বোয়াল মাছের দাম রয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে। তবে এসব মাছ ছাড়া বাজারের অন্য বেশির ভাগ মাছ আগের দামে স্থিতিশীল রয়েছে। পাঙাশ, সিলভার কার্পসহ কয়েকটি চাষের মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ডিমের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গত সপ্তাহের মতোই এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানান, শীত মৌসুমে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতিটি ডিমের দাম ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে, তবে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি কম হওয়ায় দাম আর কমছে না।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘ডিমের দাম আগের মতো থাকলেও মুরগি আর কিছু মাছের দাম বেড়েছে। এই মৌসুমে ইলিশ খেতে পারিনি, ভেবেছিলাম দাম কমবে। কিন্তু কই আর কমলো? আমাদের মতো শ্রেণির মানুষের ভরসার জায়গা হলো ব্রয়লার মুরগি আর তেলাপিয়া-পাঙাশ মাছ। এসবের মধ্যে থেকেও সপ্তাহের বাজার করতে গেলে মোট খরচটা আগের চেয়ে বেশি পড়ছে।’

বনশ্রী এলাকার গৃহিণী শাহানা বেগম বলেন, ‘মুরগির দামটা এতদিন কম ছিলো, এখন সেই স্বস্তি নেই। মনে হচ্ছে রমজান মাস আসতে আসতে আরও বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা সহজ হচ্ছে না।’

ভাই ভাই মুরগি আড়তের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ সময় বিয়েশাদি, পিকনিক আর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সোনালি মুরগির চাহিদা বেশি থাকে। সামনে রোজাও, তাই পাইকারিতেই দাম কিছুটা বেড়েছে।’

মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, রুই, টেংরা বা পাবদার মতো কিছু মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে। তবে তেলাপিয়া বা অন্যান্য চাষের মাছ আগের দামেই মোটামুটি পাওয়া যাচ্ছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading