গৃহকর্মী নির্যাতন: গ্রেপ্তারের পর কারাগারে বিমানের এমডি ও স্ত্রী

গৃহকর্মী নির্যাতন: গ্রেপ্তারের পর কারাগারে বিমানের এমডি ও স্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৯:০৫

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের এক মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার গভীর রাতে উত্তরার বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজু আহমেদ শুনানি শেষে জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সাফিকুর রহমান ছাড়া বাকিরা হলেন তার স্ত্রী বীথি এবং বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।

আসামিদের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, “সাফিকুর রহমান একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি তো বাসায় থাকেন না, সরকারি কাজে থাকেন। তিনি এসব ঘটনার সাথে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না এবং কী হয়েছে জানেনও না। তাকে (ভিকটিম) অক্ষত অবস্থায় পরিবার বুঝে নিয়েছে। তার (এমডি) স্ত্রী অসুস্থ, বয়স্ক একজন মানুষ। উনারা এসবের কিছুই জানে না।”

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “পেটের দায়ে ১১ বছরের শিশুটিকে তার পরিবার কাজে দেয়। ওই বাসায় ঢোকার পর থেকে প্রতিনিয়ত তাকে অত্যাচারে জর্জরিত করেছে। তার কি ভয়ানক অবস্থা করেছে!”

শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা এই রোববার মামলা দায়ের করেন।

সেখানে বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়।

মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি।

এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে ‘দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।

মোস্তফা মামলায় বলেছে, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি এর ‘সদুত্তর দিতে পারেননি’।

পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাকে বলে, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হত। তাকে ‘মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকাও’ দেওয়া হত।

জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে বীভৎসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading