শপথ নিতে সংসদ ভবনে তারেক রহমান
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১০:৪৫
নতুন সরকারে শপথ নিতে জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি সংসদ ভবনে পৌঁছান।
এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে রওয়ানা হন বিএনপির চেয়ারম্যান।
বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে তিন ধাপে ১০০ জন করে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর দুপুরে বিএনপির সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে এবং বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন, যার ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবার বিএনপির পছন্দ অনুযায়ী সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণ প্লাজায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল অস্থায়ী মঞ্চ ও ভিভিআইপি জোন। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবনকে মেরামত করে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রায় হাজার খানেক অতিথির উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপিত হবে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশে গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, যাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান।
নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হিসেবে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এর মাধ্যমেই শেষ হলো এক ঐতিহাসিক ক্রান্তিকালীন অধ্যায়।
আজকের এই শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ ও সংবিধান সংস্কারের এক নতুন পথচলা। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন।
ইউডি/কেএস

