খেলার মাঠ থেকে মন্ত্রিসভায় আমিনুল হক
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৮:০০
২০০৩ সালের ঐতিহাসিক সেই দিনটার কথা হয়তো আজও গেঁথে আছে দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়। অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের অধীনে প্রথম ও শেষ বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। সেদিন বাংলাদেশের গোলপোস্ট আগলে রেখেছিলেন আমিনুল হক। দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলকিপার বলা হয় তাকে। ২০০৩ সাফে পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ২টি গোল হজম করেছিলেন তিনি। সেই আমিনুল হক এবার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের জনগণের, তবে তার থেকেও বড় দায়িত্ব এসে পড়লো তার কাঁধে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে হেরে গিয়েও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন আমিনুল হক।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার বুট জোড়া তুলে রাখার পরপরই নাম লেখান রাজনীতিতে। নানা চড়াই- ওতরাই পেরিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পান আমিনুল। কিন্তু নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল বাতেনের কাছে হেরে যান তিনি। তবে নির্বাচনে হেরে গেলেও জায়গা পেয়েছেন বিএনপির মন্ত্রিসভায়, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। তবে ক্রীড়াঙ্গন থেকে অনেকেই সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী হয়েছেন।
তবে সাবেক কোনো ক্রীড়াবিদের টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড নেই বললেই চলে। বলতে এবারই প্রথম টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হলেন আমিনুল হক।
সাধারণত বিশিষ্ট ব্যক্তি যাদের বিশেষ বিষয়ে অভিজ্ঞতা, অসাধারণ দক্ষতা ও দলের ত্যাগী নেতাদের টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হয়। কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদ নির্বাচনে পারাজিত হয়ে কিংবা টেকনোক্র্যাট কোটায় এর আগে কখনও মন্ত্রী হননি, আমিনুল হকই এবার প্রথম। নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন আমিনুল হক।
মোহামেডান, আবাহনী, ফরাশগঞ্জ, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন তিনি। গোলকিপার হয়েও ঘরোয়া ফুটবলে দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলার ছিলেন আমিনুল।
২০০৩ সালে সাফ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে এসএ গেমসে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন। আন্তর্জাতিক অনেক ম্যাচে গোলকিপার হিসেবে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন আমিনুল হক।
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সাবেক তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেজর হাফিজই প্রথম মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন পর আরেক সাবেক জাতীয় ফুটবলার আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। তৃতীয় সাবেক ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন আমিনুল হক।
ইউডি/এআর

