বৈকাল হ্রদে অ্যাডভেঞ্চারে গিয়ে করুণ পরিণতি
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১০:০০
সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদের জমাট বাঁধা বরফ ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন চীনা পর্যটক এবং তাদের রুশ চালক। রাশিয়ার উদ্ধারকারী ডুবুরিরা হ্রদের ১৮ মিটার গভীর থেকে এই আটজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
শুক্রবার ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবরটি নিশ্চিত করেছেন ইরকুটস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ। তিনি জানিয়েছেন, একটি মিনিবাস হ্রদের বরফ আচ্ছাদিত পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় তিন মিটার প্রশস্ত একটি ফাটলে পড়ে সরাসরি তলিয়ে যায়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহত পর্যটকদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও ছিল। তবে সৌভাগ্যবশত একজন চীনা পর্যটক কোনোমতে জীবিত গাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
গভর্নর কোবজেভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে নিহতদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যে স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে পানির গভীরতা ছিল ৫৯ ফুট বা ১৮ মিটার। প্রচণ্ড শীত এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত দুঃসাধ্য। ডুবুরিদের দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে ক্যামেরা ব্যবহার করে নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান শনাক্ত করতে হয়েছে। বৈকাল হ্রদ বিশ্বের গভীরতম হ্রদ হিসেবে পরিচিত যার সর্বোচ্চ গভীরতা ৫৩৮৭ ফুট। শীতকালে এই হ্রদের উপরিভাগ শক্ত বরফে ঢেকে গেলেও অনেক সময় সেখানে অদৃশ্য ফাটল তৈরি হয় যা জীবনের জন্য চরম ঝুঁকি বয়ে আনে।
গভর্নর এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে পর্যটকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সময়ে বৈকাল হ্রদের বরফের ওপর দিয়ে চলাচল করা কেবল নিষিদ্ধই নয় বরং তা নিশ্চিত মৃত্যুর শামিল। তিনি আরও জানান, নিহত চীনা পর্যটকরা কোনো স্বীকৃত ট্যুর অপারেটরের সাহায্য না নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে এবং স্বতন্ত্রভাবে ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। নিয়ম অমান্য করে এবং কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বরফের ওপর গাড়ি নিয়ে যাওয়ার কারণেই এমন অপমৃত্যু ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
মর্মান্তিক এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গভর্নর কোবজেভ ক্ষোভের সাথে জানান, এত বড় প্রাণহানির পরেও মানুষের মাঝে সচেতনতা ফিরে আসেনি। এই ঘটনার পরদিন অর্থাৎ শনিবারও দুটি পৃথক ঘটনায় বরফে আটকে পড়া গাড়ি থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৈকাল হ্রদে পর্যটন কেন্দ্রিক এমন দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত জানুয়ারির শেষের দিকেও এক চীনা পর্যটক বরফের ওপর গাড়ি উল্টে গিয়ে প্রাণ হারান। মূলত শীতকালীন রোমাঞ্চের খোঁজে আসা পর্যটকরা অনেক সময় রোমাঞ্চের নেশায় পড়ে নিরাপত্তার কড়া বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেন, যার পরিণাম হিসেবে বারবার এমন শোকাবহ সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছে।
সূত্র: বিবিসি
ইউডি/কেএস

