৩৯ ঘণ্টায় দেশে তিনবার ভূমিকম্প, কিসের পূর্বাভাস?
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:৪০
রাজধানীসহ সারা দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে ৫.৩ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূকম্পন আঘাত হানে। এ নিয়ে গত ৩৯ ঘণ্টায় দেশে তিনবার এবং গত ২৭ দিনের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১০ বার মৃদু ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হলো।
যদিও এখন পর্যন্ত এসব ভূকম্পনে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে বারবার এই কম্পন জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।ইউরো মেডিটেরিনিয়ান ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএসএমসি) ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, আজকের ভূমিকম্পটি ছিল চলতি মাসে সবচেয়ে জোরালো।
২৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আশাশুনি অঞ্চলে।এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্যে।
এছাড়া বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মিয়ানমারের মাওলাইক অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হওয়া ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ।ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দেশের মানচিত্রে ভূমিকম্পের এক ধারাবাহিক চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় ৩ মাত্রার কম্পনের মাধ্যমে মাসটি শুরু হয়।
এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মিয়ানমার কেন্দ্রে দুবার এবং ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। পরবর্তীতে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলে যথাক্রমে ৩.৩ ও ৪ মাত্রার দুটি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে ৪.১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।
এভাবে ধারাবাহিকভাবে আজ পর্যন্ত মোট ১০টি ভূমিকম্পের সাক্ষী হলো দেশবাসী।ভূতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই ঘন ঘন কম্পনকে বড় ধরনের দুর্যোগের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বরাবরই বেশি।
ভূত্বকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হতে থাকলে তা ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে আংশিক মুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো শক্তি মুক্ত না হলে তা মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।বর্তমানে ছোট ছোট কম্পনের এই উচ্চ হার ভবিষ্যতে একটি বিশাল মাত্রার ভূমিকম্পের ইঙ্গিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউডি/এআর

