তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমলো ৮৭ হাজার কোটি টাকা

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমলো ৮৭ হাজার কোটি টাকা

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (০২ মার্চ) ২০২৬, আপডেট ২৩:০০

লাফিয়ে বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণে কিছুটা লাগাম এসেছে।।

বিশেষ পুনঃতপশিল ও আদায় জোরদারের ফলে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কমে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায় নেমেছে। মোট ঋণের যা প্রায় ৩১ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা ছিল মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গত বছরের শেষ তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।

অবশ্য গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক বছর আগের তুলনায় ২ লাখ ১১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অনিয়ম জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের অনেকে পালিয়েছেন। কেউ কেউ জেলে আছেন। বিগত সরকারের সময়ে নীতি সহায়তার আড়ালে খেলাপি ঋণ লুকিয়ে রাখার সুযোগ দেওয়া হতো। আবার নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি রেখেও লভ্যাংশ ঘোষণা করা যেতো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক কড়াকড়ি করা হয়। একদিকে খেলাপি ঋণের আসল চিত্র সামনে এসেছে, আরেক দিকে নিয়ম করা হয়েছে সঞ্চিতি ঘাটতি রেখে ২০২৫ সালের জন্য কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারবে না। যে কারণে বিশেষ সুবিধায় পুনঃতপশিল বা আদায় জোরদার করেছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী,  গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বিপুল অংকের এ খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার প্রয়োজন ছিল ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯১ কোটি টাকা। তবে রাখতে পেরেছে মাত্র ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। এতে করে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। তিন মাস আগে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা প্রয়োজনের বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। এর মানে তিন মাসে প্রভিশন ঘাটতি কমেছে এক লাখ ৫২ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading