হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি: প্রধানমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৪:৩৩
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সময় দেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেন, ‘এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।’
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত শহীদদের স্মরণ করেন।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি।
যারা গুম, খুন ও আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন।
কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন, কিন্তু এই শুভ মুহূর্তটি দেখতে পারেননি।
আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি।
ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়— এটাই বিএনপির মূল দর্শন।স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।
আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।
তিনি প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক।
ইউডি/এআর

