ইরানে সরকার পতনের লক্ষণ নেই, বলছেন মার্কিন গোয়েন্দারা
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫৫
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আমেরিকা ও ইসরাইলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব এখনও অক্ষতই রয়েছে। দেশটির সরকার বা শাসন ব্যবস্থা শিগগিরই পতনের কোনো লক্ষণ নেই। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে এমনটাই বলা হয়েছে। একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও আমেরিকা। ওই সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে সরকার উৎখাত ও নেতৃত্ব পরিবর্তনই এই ‘অভিযানে’র লক্ষ্য। কিন্তু সংঘাত ১৩তম দিনে গড়ালেও এখন পর্যন্ত সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন।
তেমন কোনো সম্ভাবনাও দেখছে না মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ বলছে, ইরানি সরকার বর্তমানে কোনো ঝুঁকিতে নেই এবং দেশটির জনগণের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে। গত কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সর্বশেষ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০০৩ সালের পর আমেরিকার চালানো সবচেয়ে বড় এই সামরিক অভিযান তিনি ‘শিগগিরই’ শেষ করবেন। তবে ইরানের নেতারা যদি শক্ত অবস্থানে অনড় থাকেন, তবে যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাপ্তি টানা কঠিন হতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের সংহতি নষ্ট হয়নি। ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে দেশটির সরকারের পতন ঘটবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প এই অভিযান শুরুর সময় ইরানিদের প্রতি সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তার শীর্ষ সহযোগীরা পরে দাবি করেন, সরকার উৎখাত করা তাদের মূল লক্ষ্য নয়।
খামেনি ছাড়াও এই হামলায় রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, খামেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তী নেতারা দেশটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এরই মধ্যে খামেনির ছেলে মোজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেমদের পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’।
সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল বর্তমান সরকারের কোনো অংশকেই অবশিষ্ট রাখতে চায় না। তবে কেবল বিমান হামলা চালিয়ে কীভাবে সরকার পতন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সে জন্য হয়তো একটি স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার সাহস পান। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি।
ইউডি/রেজা

