অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে একাধিক নিত্যপণ্যের দাম

অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে একাধিক নিত্যপণ্যের দাম

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১০:৫২

দেশের বাজারে মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি, সবজিসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাধ্য হয়ে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনছেন, আবার কেউ কেউ তুলনামূলক কম দামি পণ্যে ঝুঁকছেন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সোনালি মুরগির কেজি লাগামহীন। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০–৪২০ টাকায়। আর ৩৫০ টাকার নিচে রুই মাছ কেনা যায় না। আকারে একটু বড় হলে রুই মাছের দাম হয় ৪০০ টাকার আশপাশে।

গত বছরের এই সময়ের তুলনায় তেলাপিয়া, পাঙাশ ও চিংড়ি মাছের দাম এখন বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে দাম বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের।

বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও চড়া। সাধারণত সীমিত আয়ের মানুষেরা খরচ পোষাতে এসব মাছ, মুরগি ও সবজি বেশি কেনেন। কিন্তু এসব নিত্যসামগ্রীর দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। ফলে খরচ বাঁচাতে নানা জায়গায় কাটছাঁট করছেন তারা।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে মুরগি ও মাছের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়েছেন। আর গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু হিসেবে বেশ কিছু সবজির দামও বাড়তি।

রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে সোনালি মুরগির এমন চড়া দাম রয়েছে। একপর্যায়ে ৪৫০ টাকা দামও উঠেছিল। গত এক মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে।

বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বাড়ায় লোকসানে পড়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক খামারি সোনালি মুরগি পালন কমিয়েছেন। এ ছাড়া রোগের আক্রমণেও অনেক মুরগি মারা যায়। ফলে বর্তমানে সোনালি মুরগির সরবরাহ–সংকট থেকে দাম বেড়েছে। ক্রেতারা অবশ্য এ যুক্তি মানছেন না।

যেমন মোহাম্মদপুরের এক ক্রেতা বলেন, হঠাৎ করে সোনালি মুরগির দাম ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ–সংকটের সুযোগ নিয়ে অন্যায্যভাবে দাম বাড়িয়েছেন। তাদের কারসাজি ছাড়া একবারে এত দাম বাড়ার কথা নয়।

এছাড়া আকারভেদে প্রতি কেজি তেলাপিয়া, কই ও পাঙাশ মাছ ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের চাষের চিংড়ির কেজি ৮০০ টাকা। আর চাষের শিং, পাবদা ও পোয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি

বাজারে এখন প্রতি কেজি পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, সিম ও সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও কাকরোল ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সাধারণত এ সময়ে মৌসুমি সবজির দাম একটু বেশি থাকে। এসব সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। বাজারে চিনি ও ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে।

বিক্রেতারা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে তিন থেকে চার টাকা করে বাড়িয়েছে।

এদিকে বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও কেজিতে ৫ টাকা কম ছিল।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading