ইসলামাবাদ সংলাপ: বিলাসবহুল হোটেলে দরজার আড়ালে কি ঘটেছিলো?
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ২০২৬, আপডেট ১৮:২০
পাকিস্তানের ইসলামবাদে বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ এক রাত ছিল গত শনিবার। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ ও চুক্তি করার আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বড় ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাই বলেছেন, তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সেটি আসলে ভেস্তে গিয়েছিল কীভাবে- তা নিয়ে এখনো জনমনে প্রশ্ন আছে। বিষয়টি নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স পাকিস্তান ছাড়াও দুই দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেছে। হোটেল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারাও কিছু তথ্য দিয়েছেন। যা থেকে বৈঠকের মুহূর্তগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
হোটেলটির কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি আলাদা উইং এবং একটি কমন এরিয়াতে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। একটি উইংয়ে ছিল মার্কিন প্রতিনিধি দল, অন্যটিতে ইরানিরা। মাঝখানের কমন এরিয়ায় পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার মূল কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। ফলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফসহ অন্য প্রতিনিধিরা বিরতির সময় কক্ষের বাইরে গিয়ে নিজ দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের মাঝামাঝি সময়ে বড় ধরনের সাফল্যের আশা তৈরি হয়েছিল। মনে হচ্ছিল দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যাচ্ছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তির ‘খুবই কাছাকাছি’ পৌঁছেছিল। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এমন কিছু বিষয় সামনে আসে যেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
আলোচনার টেবিলে সেদিন মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা। ইরানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সেদিন বৈঠকের পরিবেশ ছিল গুরুগম্ভীর এবং ‘অবন্ধুসুলভ’। পাকিস্তান পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করলেও কোনো পক্ষই উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে খুব একটা নমনীয়তা দেখায়নি।
ইউডি/এবি

